আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসের পর মাস টানা কয়েক ঘণ্টা নাবালক ছেলেকে চেন দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতন পরিবারের। এই কয়েক ঘণ্টায় জোটে না খাবার, জল। প্রতিবেশীদের থেকে অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে রীতিমতো আঁতকে উঠেছে পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে অঞ্জনি থানার অন্তর্গত এলাকায়। চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-এ ফোন করে জানানো হয়, এক ১২ বছরের নাবালককে গত কয়েক মাস ধরেই চরম শারীরিক নির্যাতন করে তার পরিবার। 

জানা গেছে, নাবালকের বাবা ও মা, দু'জনেই পেশায় শ্রমিক। ছেলের আচরণে তীব্র অসন্তুষ্ট তাঁরা। তাই কাজে বেরিয়ে যাওয়ার আগে হাতে চেন বেঁধে ছেলেকে আটকে রেখে যান। গত তিন থেকে চার মাস এহেন নির্যাতনের শিকার ওই নাবালক। যা নজরে পড়েছে প্রতিবেশীদেরও। এই কারণেই নাবালকের পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে ফাঁকা বাড়িতে ছোটখাটো জিনিস চুরি করত নাবালক। কখনও কখনও কিছু টাকাও চুরি করেছে। হাতেনাতে কয়েকবার ধরা পড়ার পর, অবশেষে কড়া শাস্তি দিতে শুরু করেন ছেলেকে। কাজে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ছেলেকে চেন দিয়ে বেঁধে রেখে যান। কাজ থেকে বাড়িতে ফেরার পর, সেই চেন খুলে দেন তাঁরা। 

জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছেই দেখা যায় নাবালক অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে রয়েছে। ছোট্ট জায়গায় চেন দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। কোনও জল, খাবার কিছু ছিল না। নাবালকের এহেন পরিস্থিতি দেখেই শিউরে ওঠেন দলের সদস্যরা। এমন নির্মম নির্যাতনের নমুনা দেখেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

নাবালককে উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠানো হয়েছে। তাকে কাউন্সেলিং করা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।