আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু বছর পর সরাসরি বিমান যোগাযোগ ফের চালু হতে চলেছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই দুই দেশের মধ্যে ডাইরেক্ট ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে বেসামরিক বিমান চলাচল সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ বিমানের (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) ঢাকা–করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের বিরতির পর দুই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর মধ্যে নন-স্টপ বিমান পরিষেবা ফিরতে চলেছে।

এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAA)-এর মাধ্যমে, যা সরকারের সম্মতির পর জারি করা হয়। সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ার পর সিএএ-এর মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেন।

প্রাথমিকভাবে এই ফ্লাইট পরিষেবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে। তিন মাসের জন্য, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি থাকবে। এই সময়কালে পরিষেবার কার্যকারিতা ও পরিচালনাগত বিষয়গুলি মূল্যায়ন করা হবে বলে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

সিএএ সূত্র আরও জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাকিস্তানের আকাশসীমা নির্ধারিত ও অনুমোদিত রুট ব্যবহার করতে পারবে। তবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে ওড়ার  সময় নির্দিষ্ট করিডর মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে। নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত সমস্ত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

করাচি বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের জন্য স্লট বরাদ্দও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় প্রতিটি ফ্লাইট ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট বিবরণ জমা দিতে হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হলে দুই দেশের বিমান পরিবহণ খাতই উপকৃত হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, ব্যবসা, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং সরকারি পর্যায়ের সফর ও বৈঠকও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্রে বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আকাশপথে এই নতুন সংযোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।