আজকাল ওয়েবডেস্ক: তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সকলের জবুথবু দশা। রাতে সদ্যোজাত সন্তানকে পুরু কম্বলে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মা। সকালে উঠেই টের পেলেন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কম্বলের মধ্যে শ্বাসরোধ হয়ে সদ্যোজাতর মৃত্যুতে হাহাকার পরিবারে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বারাণসী জেলার মির্জামুরাদ এলাকায়। শুক্রবার সকালে বাড়িতেই কম্বলের মধ্যে শ্বাসরোধ হয়ে ২৫ দিনের এক সদ্যোজাতর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ জারি রয়েছে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সদ্যোজাতকে খাবার খাওয়ানোর পর এক কম্বলের নীচেই তাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মা। কম্বলের মধ্যে সদ্যোজাতকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, সদ্যোজাত অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর তড়িঘড়ি করে মোহনসরাইয়ে বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সদ্যোজাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘিরে বেনিপুর গ্রামে শোকের ছায়া। ওই গ্রামের বাসিন্দা রাহুল কুমার দু'বছর আগে সুধা দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২৫ দিন আগেই তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল। খুশির জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল গোটা পরিবার। এক মাসের আগেই সদ্যোজাতর এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে, তা কল্পনাতীত সকলের কাছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুরু কম্বলের মধ্যে সদ্যোজাতদের পুরোপুরি জড়িয়ে রাখলে, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। সদ্যোজাত ও শিশুদের কখনও পুরু কম্বলের নীচে জড়িয়ে রাখা উচিত না। বিশেষত মুখের উপর কখনও চাদর, কম্বল ঢেকে রাখা উচিত না। শ্বাস নিতে সমস্যা হলেও সদ্যোজাতরা সেই কম্বল সরাতে পারে না। তার জেরেই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে।
গত ডিসেম্বরে এমন আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল এই রাজ্যেই। বহু বছরের প্রার্থনার পর সন্তানের মুখ দেখেছিল পরিবার। ছোট্ট ভুলেই এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। বাবা-মায়ের মাঝে শুয়েছিল সদ্যোজাত সন্তান। গভীর রাতে বাবা-মায়ের শরীরের চাপেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তার। মর্মান্তিক এই ঘটনায় হতবাক সকলেই।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। পুলিশ জানিয়েছে, বহু বছরের প্রার্থনার পর পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এক যুবতী। এদিকে বাবা-মায়ের ছোট্ট ভুলেই ২৩ দিনের সদ্যোজাত সন্তানের মর্মান্তিক পরিণতি হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা-মায়ের শরীরের চাপে মৃত্যু হয় তার।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আমরোহা জেলার হাসানপুর থানার অন্তর্গত সিহালি জাগির এলাকায়। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে। বাবা ও মায়ের মাঝখানে শুয়েছিল সদ্যোজাত সন্তান। ঘুমন্ত অবস্থায় অসাবধানতাবশত সদ্যোজাতের উপরেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়েন তাঁরা। বাবা-মায়ের শরীরের চাপে পিষে যায় সদ্যোজাত।
ঘটনাটি টের পান পরেরদিন সকালে। গত ৮ ডিসেম্বর, সোমবার সকালে খাওয়াতে গিয়ে যুবতী দেখেন, সদ্যোজাতর কোনও জ্ঞান নেই। অনেকবার ডাকাডাকির পরেও সাড়া মেলেনি তার। তড়িঘড়ি করে সদ্যোজাতকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান আসমা ও সাদ্দাম আব্বাসি নামের যুবতী ও যুবক। সেখানেই চিকিৎসকরা সদ্যোজাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, বিয়ের পর সাদ্দাম ও আসমা চার বছর ধরে সন্তানের জন্য প্রার্থনা করছিলেন। অবশেষে গত মাসে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন আসমা। সদ্যোজাতর মর্মান্তিক পরিণতির জন্য একে অপরকেই দায়ী করেন তাঁরা। যা ঘিরে হাসপাতালের মধ্যেই তুমুল বচসা শুরু হয় দু'জনের মধ্যে। চিকিৎসকদের অনুমান, শীতের রাতে কম্বলে জড়ানো ছিল সদ্যোজাত। অসাবধানতাবশত সেই কম্বলের মধ্যে চাপা পড়তে পারে সে। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সদ্যোজাতর।
