আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'বয়স কোনও বাধা নয়, শুধু সংখ্যামাত্র...'। তা-ই যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন ১১৬ বছরের এক বৃদ্ধা। লাঠি হাতে, পায়ে হেঁটে, দুর্গম পাহাড় চড়ে পৌঁছে গেলেন তিরুমালা মন্দিরে। শ্রদ্ধাভক্তির টানে শেষমেশ ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর দর্শন সম্পন্ন করলেন তিনি। তাঁর এই অবিশ্বাস্য ভক্তি ও মনের জোর দেখে স্তম্ভিত পুণ্যার্থীরা। হতবাক তিরুপতি মন্দির কর্তৃপক্ষ ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুও। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে।
কর্ণাটকের বাসিন্দা নবনীতাম্মা নামের এই শতায়ু বৃদ্ধার তিরুপতি যাত্রার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হাজারো পুণ্যার্থীর ভিড়ে তিনি হেঁটে হেঁটেই পাহাড়ের চড়াই পথ বেয়ে উঠছেন।
১১৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার এমন অভূতপূর্ব ভক্তি, নিষ্ঠা এবং মানসিক জোর দেখে আপ্লুত তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম কর্তৃপক্ষ। পাহাড় চূড়ায় পৌঁছনোর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে আজ সোমবার ভোরে নবনীতাম্মা ও তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষ 'ভিআইপি ব্রেক দর্শন'-এর ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোনওরকম লাইনে দাঁড়াতে হয়নি তাঁকে। কোনও ঝামেলাঝঞ্ঝাট ছাড়াই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভগবান দর্শন করেন তিনি।
নবনীতাম্মার এই অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা নজর কেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুরও। সমাজমাধ্যম এক্স-এ বৃদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। লেখেন, " বিশুদ্ধ ভক্তির কাছে বয়স সত্যিই কেবল একটি সংখ্যা মাত্র! কর্ণাটকের এই ১১৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা যেভাবে পায়ে হেঁটে তিরুমালা পাহাড়ে চড়ে ভগবান দর্শন করলেন, তা দেখে আমি সত্যিই স্তম্ভিত। জীবনের এই শেষ সায়াহ্নে এসেও তাঁর এই অটুট বিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন দেখার মতো। সত্যিই এ এক বড় অনুপ্রেরণার নিদর্শন হয়ে থাকবে!"
মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্টের পর নেটপাড়াতেও প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটনাগরিকদের অনেকের বক্তব্য, নবনীতাম্মার এই সফর প্রমাণ করে দিল যে, ইচ্ছাশক্তি এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস থাকলে যেকোনও কঠিন পরিস্থিতিকেই জয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ ও দুর্গম যাত্রাপথে বৃদ্ধার পাশে যে ভাবে তাঁর পরিবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদেরও সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।















