আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থবলের দাপট নিয়ে যখন দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী রাজনীতির এক সোনালী অতীতের কথা মনে করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। অতীতে বাংলার বাম সাংসদদের নির্বাচনী খরচের অতি সাধারণ খতিয়ান দেখে তিনি কতটা অবাক হতেন, এক অনুষ্ঠানে সেই স্মৃতিচারণাই করতে শোনা গেল তাঁকে। বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়, তার তীব্র সমালোচনা করে সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, তিনি যখন প্রথমবার জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদে এসেছিলেন, তখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সাংসদদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। সমসাময়িক রাজনীতিক হিসেবে স্বভাবতই তাঁর মনে কৌতুহল জেগেছিল যে, এ রাজ্যে একেকটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হতে ঠিক কত টাকা খরচ করতে হয়। সেই কৌতূহল থেকেই তিনি তৎকালীন কয়েকজন বাম সাংসদকে তাঁদের নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন।

বাম সাংসদদের থেকে পাওয়া উত্তর শুনে কার্যত তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন কিরেণ রিজিজু। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলার সেই বাম সাংসদরা হাসিমুখেই জানিয়েছিলেন যে একটি বড় নির্বাচনে জয়ী হতে তাঁদের মাত্র ৪, ৫ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হতো! সেই যুগে দাঁড়িয়েও এই সামান্য অঙ্কের নির্বাচনী খরচ অবিশ্বাস্য ঠেকত অনেকের কাছেই। সাংসদরা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, এই সামান্য টাকাও আসলে নির্বাচনী প্রচারের সময় যাতায়াত কিংবা কর্মীদের যৎসামান্য চা-পানির ব্যবস্থা করতেই খরচ হয়ে যেত। ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার কোনও চল সেখানে ছিল না।

স্মৃতিচারণার পাশাপাশি দেশের বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি অন্ধকার দিক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, আজ ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে ভোট পাওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করে নির্বাচনে জয়লাভ করা যে কোনও সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য কখনওই ভালো লক্ষণ হতে পারে না। এই টাকার খেলার অবসান কীভাবে ঘটানো সম্ভব, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলেও মনে করেন তিনি। অতীতে বাংলার বামপন্থীদের এই মিতব্যয়ী নির্বাচনী লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি আসলে দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নীতি ও আদর্শের গুরুত্বকেই আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন।