আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা এবং কিশ্তওয়ার জেলায় রাতভর ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ হড়পা বান (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দিয়েছে। এর ফলে ডোডা-কিশ্তওয়ার হাইওয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সোমবার সকাল থেকেই যান চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী কিশ্তওয়ার জেলায় নির্মাণাধীন ৫৪০ মেগাওয়াট কোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Kwar Hydroelectric Power Project) সুড়ঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় এক মারাত্মক ভূমিধস নামে। এই ধসের জেরে কাদামাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে গেছে বেশ কিছু ট্রাক, ডোজার সহ একাধিক নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও সামগ্রী।
হড়পা বানের কারণে হাইওয়ের ওপর বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ এসে জমা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলের তোড়ে মহাসড়কের একটি বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্থগিত রাখতে হয়েছে। প্রেম নগর এলাকায় রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বেশ কিছু যানবাহন মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে তলিয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, প্রেম নগরের কাছে বন্যা ও ধসের কারণে রাস্তা সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ডোডা জেলার ২৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কের দু’দিকেই সারিবদ্ধভাবে বহু যানবাহন আটকে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যেই রাস্তা পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। যতক্ষণ না রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে এই পথ এড়িয়ে চলার এবং ট্রাফিক নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএইচআইডিসিএল (NHIDCL)-এর হাইওয়ে ম্যানেজার সানি পাধা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রেম নগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। খবর পেয়েই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে জেসিবি এবং এক্সকাভেটর আনিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করান। তিনি জানান, ভোরবেলার দিকে বন্যার রূপ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগেই প্রশাসনের তরফে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় এবং আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বিশেষ করে নদী এবং পাহাড়ি নালার কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিয়াসি জেলার পাহাড়ি এলাকা থেকেও কিছু ছোটখাটো হড়পা বানের খবর মিলেছে।















