আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে। এই ফলাফল শুধু একটি দলের জয় নয়, বরং প্রায় ছয় দশকের পুরনো দ্রাবিড় রাজনীতির দ্বৈরথ ভেঙে দিয়েছে।


সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ডিএমকে। দলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন নিজের কেন্দ্র কোলাথুর থেকেই হেরে গিয়েছেন। অন্যদিকে এআইডিএমকে অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, তাদের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৪৭টি আসন।


এই বিপুল সাফল্যের পরই সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে নেমেছেন বিজয়। চেন্নাইয়ের পট্টিনামপাক্কমে তাঁর বাসভবনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী ৭ মে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রায় ৯ জন মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন।


তবে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে ১০টি আসন কম রয়েছে টিভিকে-র। তাই জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট গড়ার চেষ্টা চলছে।


তবে ডিএমকে আশাবাদী যে তাদের জোটসঙ্গীরা দল ছেড়ে যাবে না। বিশেষ করে ভিসিকে এবং বামপন্থী দলগুলি টিভিকে-র সঙ্গে যাবে না বলেই তাদের বিশ্বাস। যদিও কংগ্রেসের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।


এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীসভা গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক—যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার, সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলবিদ এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—মন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

 

&t=125s
সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই পরিবর্তন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং একটি নতুন যুগের সূচনা। এখন নজর—বিজয় কীভাবে জোট গঠন করে স্থিতিশীল সরকার গড়েন এবং রাজ্যের উন্নয়নে নতুন দিশা দেন।