আজকাল ওয়েবডেস্ক: মন্দিরের জন্য গম চেয়েছিল গ্রামের মাতব্বররা। সামর্থ্য নেই বলে তা দিতে অস্বীকার করেছিলেন এক দলিত কৃষক। আর সেই ‘অপরাধেই’ সপরিবারে আক্রান্ত হতে হলো তাঁদের। মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার মহারাজগঞ্জ গ্রামে এক দলিত পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার এই ঘটনায় নতুন করে দানা বেঁধেছে উত্তেজনা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই দলিত পরিবারের কাছে মন্দির তৈরির অনুদান হিসেবে গম দাবি করেন। কিন্তু ওই দরিদ্র পরিবারটি জানায়, যতটা সাধ্য ছিল তাঁরা আগেই দিয়েছেন। এর চেয়ে বেশি গম দিলে সারা বছর সন্তানদের খাওয়ানোর মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। অভিযোগ, এই কথা শোনা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হামলাকারীরা।
পরিবারটির অভিযোগ, কথা কাটাকাটি চলাকালীনই লাঠিসোটা, লোহার রড ও পাথর নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। রেহাই পাননি মহিলা ও শিশুরাও।
ঘটনায় পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, কী ভাবে একদল মানুষ অসহায় পরিবারটির ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে। শুধু মারধরই নয়, ওই পরিবারের মজুত রাখা শেষ সম্বল গমটুকুও জোর করে গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শ্যাম প্যাটেল, হরদয়াল প্যাটেল সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তফশিলি জাতি-উপজাতি প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করে চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি একজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও স্বস্তিতে নেই আক্রান্ত পরিবারটি। তাঁদের দাবি, এটি নিছক গোলমাল নয়।পরিকল্পিত আক্রমণ। মন্দির কমিটির যে সদস্যরা এই ভাবে জোর করে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিল, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।















