আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের কয়েক দিন পরেই জানতে পেরেছিলেন স্বামী বিবাহিত। প্রতিবাদ করতেই শুরু হয় অকথ্য মারধর ও অত্যাচার। উত্তরপ্রদেশের ভদোহী জেলায় এক অল্পবয়সি গৃহবধূর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে রাহুল তিওয়ারির সঙ্গে বিয়ে হয় ২০ বছরের তৃপ্তি দুবের। ভদোহীর জ্ঞানপুর কোতোয়ালি এলাকায় ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের দিন সাতেক পরেই তৃপ্তি জানতে পারেন, স্বপ্না সিং নামে এক মহিলার সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক রয়েছে। স্ত্রীকে রাহুল সোজাসুজি জানিয়ে দেন, স্বপ্না তাঁর প্রথম স্ত্রী। এই নিয়ে বিবাদ শুরু হলে তৃপ্তির ওপর চড়াও হন তাঁর স্বামী।

তৃপ্তির দাবি, শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের জানালে তাঁরাও স্বীকার করে নেন যে রাহুলের আগের বিয়ের কথা তাঁরা জানতেন। কিন্তু বিয়ের সময় তা গোপন রাখা হয়েছিল। এর পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে তৃপ্তিকে বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন চলে মারধর ও মানসিক নির্যাতন। অত্যাচারের জেরে তরুণীর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ, প্রমাণের জন্য তরুণী নিজের ফোনে অত্যাচারের কিছু দৃশ্য রেকর্ড করেছিলেন, কিন্তু তাঁর স্বামী ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

জানা গিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর কোনওরকমে ভাইকে ফোন করে সব জানান তৃপ্তি। তার পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। জ্ঞানপুর কোতোয়ালির ইন-চার্জ বিশ্বজ্যোতি রাই জানান, রাহুল, তাঁর মা এবং দুই বোনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়েই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত পরিবার। বর্তমানে পুলিশ তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের এলুরু জেলায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিয়ে করতে চাওয়াই ভুল হল এক যুবকের৷ তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুঁটিতে বেঁধে মারধর ও চরম অপদস্থ করার অভিযোগ উঠল। দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে পরিবারের অমতে বিয়ে করার ‘শাস্তি’ দিতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এলুরুর বাসিন্দা সাই চাঁদ এবং সাই দুর্গার আট বছরের প্রেম। কিন্তু মেয়ের বাড়ির লোকেরা এই সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। শেষমেশ পরিবারের অমতেই পুলিশি নিরাপত্তায় বিয়ে সারেন ওই যুগল। বিয়ের আসরে বরের বাড়ির সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কনের বাড়ির কেউ আসেননি।

অভিযোগ, এই বিয়ের পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা। সাই চাঁদকে একা পেয়ে তাঁরা চড়াও হন। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই হুলুস্থুল। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যুবককে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাঁকে দফায় দফায় মারধর ও লাঞ্ছনা করা হয়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এলুরু জেলার পুলিশ সুপার শিব প্রতাপ কিশোর জানিয়েছেন, “মেয়ের পরিবার সম্ভবত এই বিয়ে মানতে চায়নি কারণ তরুণী ডাক বিভাগে চাকরি করেন আর যুবকটি এখনও বেকার। আমরা অপহরণ ও মারধরের মামলা দায়ের করেছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।” পুলিশ এই ঘটনার খতিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ওই নবদম্পতিকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।