আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজিয়াবাদ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের ভয় দেখাচ্ছেন এই দাবি করে যে, তাঁদের কাছে এমন একটি ‘যন্ত্র’ আছে যা দিয়ে নাকি বোঝা যায় কেউ অবৈধ অভিবাসী কি না কিংবা মিথ্যা বলছে কি না। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওটি রেকর্ড  করা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর, গাজিয়াবাদের কৌশাম্বি থানার অন্তর্গত বিহারি মার্কেট বস্তি এলাকায়। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই দিন কৌশাম্বি থানা পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) যৌথভাবে একটি তথাকথিত ‘এরিয়া ডমিনেশন এক্সারসাইজ’ চালাচ্ছিল। এই অভিযানের সময়ই ভিডিওটি তোলা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ অফিসার একটি স্মার্টফোন জাতীয় বস্তু এক ব্যক্তির পিঠে চেপে ধরে বলছেন সে “বাংলাদেশ থেকে এসেছে”। একই সঙ্গে ওই অফিসারকে বলতে শোনা যায়, “মিথ্যা বলবে না, আমাদের কাছে এমন মেশিন আছে যা মিথ্যা ধরে ফেলতে পারে।”
এই সময় এক মহিলা ও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নাবালিকা মেয়ে বারবার দাবি করেন যে তাঁরা বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। তাঁরা মোবাইল ফোনে নিজেদের পরিচয়পত্রও দেখান। তবুও ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত আধা ডজনের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য তাঁদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এবং সন্দেহ প্রকাশ করেই যান।

ঘটনায় যাঁকে ভিডিওতে দেখা যায়, সেই বৃদ্ধের নাম মহম্মদ সাদ্দিক। তাঁর বয়স ৭৬ বছর। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশ কর্মীরা তাঁর পরিবারকে বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। সাদ্দিক বলেন, “আমরা সব প্রমাণ দেখিয়েছি যে আমরা বিহারের মানুষ। আমি ১৯৮৭ সাল থেকে গাজিয়াবাদে থাকি। মাছ বিক্রি করেই সংসার চালাই। তবুও আমার ২২ বছরের মেয়ের সঙ্গে তর্ক করে বলা হয়, এই যন্ত্র দিয়ে নাকি সব ধরা পড়ে।”

ঘাজিয়াবাদের ডিসিপি (ট্রান্স-হিন্ডন) নিমিষ পাতিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ভিডিওটি একটি ‘এরিয়া ডমিনেশন এক্সারসাইজ’-এর সময়ই রেকর্ড করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “ক্রিসমাস ও নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সেই সময়ই ভিডিওটি সামনে আসে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের দায়িত্ব ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপি-কে দেওয়া হয়েছে।”

পুলিশের একাধিক সিনিয়র আধিকারিক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে ভিডিওতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি কৌশাম্বি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও)। তবে তদন্ত চলার কারণে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, ‘এরিয়া ডমিনেশন এক্সারসাইজ’ বলতে সাধারণত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে সংবেদনশীল বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগকে বোঝানো হয়। তবে মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের একাংশের প্রশ্ন, এই ধরনের অভিযানের আড়ালে সাধারণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষকে কি বেআইনিভাবে হয়রানি করা হচ্ছে?

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই কীভাবে পুলিশ ‘মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্র’ বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে নাগরিকদের পরিচয়  নির্ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে দাবি উঠেছে, দোষী অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হোক।

তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের দিকেই এখন নজর গাজিয়াবাদের নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির।