আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রয়াগরাজে গঙ্গা ও যমুনার জলস্তর বিপদসীমার উপরে পৌঁছানোর ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর চন্দ্রদীপ নিশাদের আরও একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গিয়েছে, দৌড়ে এসে সোজা সেই বন্যার জলে ঝাঁপ দিচ্ছেন পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর। সেখানে তাঁকে নিজের বাড়ির সামনে প্লাবিত জলে মাথা ডুবিয়ে সাঁতার কাটতে দেখা যাচ্ছে। চন্দ্রদীপ নিশাদ, যিনি এক সময় জাতীয় স্তরের সাঁতারু ছিলেন, ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, ‘আজ মা গঙ্গার কোলে, জয় গঙ্গা মাইয়া’। একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে লেখেন, ‘আপনাদের অনুরোধ, কেউ এমন কিছু করার চেষ্টা করবেন না। আমি একজন প্রাক্তন জাতীয় স্তরের সাঁতারু’।

?ref_src=twsrc%5Etfw">August 3, 2025

একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘ভারত আর ভারতীয়দের জন্যও নয়’। অনেকে আবার তাকে অনুরোধ করেছেন যাতে তিনি এমন স্টান্ট আর না করেন। এর আগে সপ্তাহান্তে আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়, চন্দ্রদীপ নিজের জলে ডুবে থাকা বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গঙ্গাকে দুধ ও ফুল দিয়ে আরতি করছেন। একটি অন্য ভিডিওতে তাঁকে কোমর-গভীর জলের মধ্যে হাঁটতে ও মা গঙ্গার কাছে প্রার্থনা করতেও দেখা গেছে। এর আগে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রবাহমান গঙ্গাজলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ওই পুলিশ অফিসার নিজের বাড়ির দরজায় গঙ্গার আরতি করছেন। বাড়ির সামনে বন্যার জলকেই গঙ্গা ভেবে নিয়ে পুজো করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: আগামী পাঁচ বছরে আর জল পাবে না ভারতের এই শহরগুলি, নীতি আয়োগের ভয় ধরানো রিপোর্ট এল সামনে

তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সকালে যখন ডিউটিতে যাচ্ছিলাম, তখন মা গঙ্গা আমাদের দরজায় এসে পৌঁছালেন। আমরা তাঁকে প্রণাম ও পূজা করলাম। জয় গঙ্গা মাইয়া’। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘নিশাদ রাজ ভবন, মোরি, দরাগঞ্জ, প্রয়াগরাজ’ লেখা নামপ্লেট বিশিষ্ট বাড়ির বাইরে হাঁটু জলের মধ্যে তিনি দুধ ও ফুল দিয়ে গঙ্গার আরতি করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চন্দ্রদীপ নিশাদ নিজের ঘরের ভিতরে কোমর-জল পেরিয়ে ‘বিশ্বাসের ডুব’ দিয়ে গঙ্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এই ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া জন্ম দিয়েছে।

কেউ কেউ তাঁর ভক্তি ও আত্মসমর্পণের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার দিকটি তুলে ধরে প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে চন্দ্রদীপ নিশাদ এলাহাবাদ হাই কোর্টের এক বিচারকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইনস্টাগ্রামে তাঁর ২১ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। উল্লেখ্য, বন্যার কারণে শহরের বহু বাসিন্দা ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হলেও, নদীর জলস্তর এখনও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রয়াগরাজ এবং আশপাশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০টিরও বেশি বন্যা ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে এবং জলের তলায় চলে যাওয়া এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।