আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে শনিবারই বৈঠক করবেন রাহুল গান্ধী। তার আগেই চমক! একসঙ্গে প্রাতরাশ সারলেন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস হাইকমান্ডের নেতৃত্বেই এই বৈঠক হয়েছে। তাহলে কী কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বিবাদ মিটল? প্রাতরাশে বৈঠকের পর সিদ্দারামাইয়া জোর দিয়ে বলেছেন, "কোনও মতপার্থক্য নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না।"
সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "আমাদের এজেন্ডা হল ২০২৮ সালের নির্বাচন। স্থানীয় সংস্থা নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা ২০২৮ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেছি। আমরা আলোচনা করেছি যে, আমরা একসঙ্গে দলের হয়ে কাজ করব। আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই এবং ভবিষ্যতেও কোনও মতপার্থক্য থাকবে না।"
তাহলে কী বিরোধের ইতি? সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, হাইকমান্ড যা বলবেন তা আমরা মেনে চলব। আগামীকাল থেকে কোনও বিভ্রান্তি থাকবে না। এখনও কোনও বিভ্রান্তি নেই। কিছু মিডিয়া রিপোর্টার বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।"
রাজ্য বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল- বিজেপির আসন্ন অনাস্থা প্রস্তাবের চ্যালেঞ্জের কথাও মুখ্যমন্ত্রী উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, "বিজেপি এবং জেডিএস-এর মিথ্যা অভিযোগ তোলার অভ্যাস আছে। তারা বলেছে যে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। তাদের সংখ্যা ৬০ এবং ১৮। আমাদের সংখ্যা ১৪০। এটি একটি নিরর্থক প্রক্রিয়া। ওরা চাইলে আমরা ওদের মিথ্যা অভিযোগের মুখোমুখি হব।"
দুই যুযুধান কোন শর্তে আলোচনার টেবিলে বসলেন? জানা গিয়েছে, সিদ্দারামাইয়ার প্রস্তাবিত রফাসূত্রেই রাজি হয়েছেন ডিকে শিবকুমার। ওই রফাসূত্র অনুযায়ী, এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরতে হবে না সিদ্দারামাইয়াকে। তবে ধীরে ধীরে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেবেন। আপাতত মন্ত্রিসভার রদবদলে ডিকের অনুগামীদের ভাল ভাল দপ্তর দেওয়া হবে। সংখ্যাও আগের চেয়ে বাড়ানো হবে। শুধু তাই নয়, ডিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং উপমুখ্যমন্ত্রী দুই পদেই বহাল থাকবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সির জন্য ডিকে শিবিরের নেতারা দিল্লিতে গিয়ে হাইকমান্ডের উপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন। কিন্তু সিদ্দারামাইয়া কুর্সি চাড়তে রাজি ছিলেন না। অস্তস্তি বাডড়ছিল হাইকমান্ডের। এই পরিস্থিতে, সিদ্দার রফাসূত্রেই এক টেবিলে বসলেন শিবকুমার। বার্তাটা স্পষ্ট, ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়।’ কিছুটা হাঁফছাড়া অবস্থা খড়গে, রাহুলদের।
