আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আগামী ১৯ মার্চ তিন দিনের সফরে মথুরা আসছেন। ঘুরে দেখবেন বৃন্দাবনের নানা মন্দির। কিন্তু, বৃন্দাবনে বাঁদরের উপদ্রব মারাত্মক। রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেই বানররা চশমা ছিনিয়ে নেয়। তারপর বহু কাকুতি-মিনতি করে খাবার দিলে সেই চশমা ফিরিয়ে দেয় বাঁদররা। কিন্তু, রাষ্ট্রপতির সফরে এমন হলে ঘোর বিপদ।

তাহলে উপায়? রাষ্ট্রপতির সফরের সময় বৃন্দাবনে বাঁদরের উপদ্রব কমাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসন। শহরের রাস্তায় দেকা যাচ্ছে বড় বড় ল্যাঙ্গুরের কাটআউট। এছাড়াও মোতায়েন থাকবে বন বিভাগের বিশেষ দল।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ দল। এরা বৃন্দাবনে থাকবেন। এই বাহিনীর কাছে গুলতি ও লাঠি থাকবে। মোট ৩০ জন কর্মীকে এই কাজে নিয়োজিত করা হবে। এর মধ্যে যেসব এলাকায় বানরের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি, সেখানে একসঙ্গে আটজন কর্মী এবং অপেক্ষাকৃত কম উপদ্রবপূর্ণ এলাকাগুলোতে তিনজন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন হলে বাঁদরদের ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর জন্য এই বাহিনীর কাছে লাল ও সবুজ রঙের লেজার লাইটও থাকবে।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ল্যাঙ্গুরের কাটআউট থাকছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল বাঁদরদের দূরে রাখা, কারণ বাঁদররা সাধারণত ল্যাঙ্গুরদের এড়িয়ে চলে।

এর আগে, ভিআইপি বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সফরের সময় প্রশিক্ষিত কর্মীরা জীবন্ত ল্যাঙ্গুর ব্যবহার করতেন। কিন্তু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংক্রান্ত বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী এখন জীবন্ত ল্যাঙ্গুর ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কর্মকর্তারা এখন ল্যাঙ্গুরের কাটআউদের ওপরই ভরসা রাখছেন।

রাষ্ট্রপতির মথুরা সফরসূচি
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৃন্দাবনের বিভিন্ন বিখ্যাত মন্দির ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তাঁর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম চ্যারিটেবল হাসপাতালে নবনির্মিত একটি ক্যান্সার ব্লকের উদ্বোধন করারও কথা রয়েছে।

১৯ মার্চ রাষ্ট্রপতির সফর শুরু হয়েছে। আগামী ২১ মার্চ তিনি গোবর্ধন পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ‘পরিক্রমা’ বা প্রদক্ষিণ করবেন, যা প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঁদরদের উৎপাত বা ব্যাঘাত ছাড়াই রাষ্ট্রপতির পুরো সফরটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এখন তাঁদের কাছে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চশমা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কুখ্যাত বাঁদররা
বৃন্দাবনের বাঁদরদের উপদ্রব সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থী—উভয়ের জন্যই দীর্ঘকাল ধরে উদ্বেগের কারণ। এখানকার বাঁদরদের সম্পর্কে প্রচলিত আছে যে, তারা চোখের পলকে চশমা ছিনিয়ে নিতে পারে। এরপর তাদের ফলের রসের মতো প্যাকেটজাত পানীয় বা খাবার দিলে সেই চশমা ফিরিয়ে দেয়।

অতীতে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরা এই বানরদের উৎপাতের শিকার হয়েছেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে, তৎকালীন মথুরার জেলাশাসক নবনীত চাহালের চশমা একটি বাঁদর ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল; চশমাটি ফেরৎ পেতে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়েছিল এবং শেষমেশ খাবারের বিনিময়ে বাঁদর তাঁকে চশমাটি ফেরৎ দিয়ে দেয়।

২০২২ সালের জুন মাসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের সফরের সময়, বন দপ্তরের কর্মকর্তারা বাঁদরদের দূরে সরিয়ে রাখতে কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি ল্যাঙ্গুরও মোতায়েন করেছিলেন।