আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় ২ কোটি টাকার গয়না চুরির ঘটনা সামনে এসেছে, কেরালার কোভডিয়ার প্যালেস থেকে। এই প্রাসাদটি ত্রাভাঙ্কোর রাজপরিবার-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাস। ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছে পুলিশ। 

এই ত্রাভাঙ্কোরের রাজারা নিজেদের রাজা বলতেন না। তারা নিজেদের “পদ্মনাভ দাস” বলতেন। মানে, তারা শাসন করতেন শ্রী পদ্মনাভস্বামী-এর প্রতিনিধি হিসেবে। এই রাজপরিবারের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দির। এই মন্দিরকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ধর্মীয় স্থান হিসাবে ধরা হয়। ফলে, এই চুরি শুধু ধন-সম্পত্তি চুরিই নয়, এই গয়নার সঙ্গে জড়িয়ে আছে, ইতিহাস। জড়িয়ে আছে রাজকীয়তা। 

 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুসারে, অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজপরিবারের সদস্য অস্বাথি থিরুনাল গৌরি লক্ষ্মী বাই। তিনি জানান, তাঁর শোওয়ার ঘর থেকেই গয়না উধাও হয়েছে। চুরি যাওয়া গয়নার মূল্য ২ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে সোনার হার, মুক্তোর গয়না, ঐতিহ্যবাহী নূপুর। কিছু গয়নায় কমলা রঙের প্রবাল পাথরও বসানো ছিল। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, বাইরের কারও পক্ষে প্রাসাদের ভেতরে ঢোকা কঠিন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত শোওয়ার ঘরে পৌঁছানো, মোটেই সহজ কথা নয়। তাই এই দুর্ঘটনায়, পরিবারের ভেতরের কারও হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ। 

 

বর্তমান কর্মচারী ও প্রাক্তন কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কে কোথায় যাতায়াত করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খোঁজা হচ্ছে রাজবাড়ির নিরাপত্তার ফাঁকফোকরও।  জানা গিয়েছে, গয়নাগুলো একটি লোহার লকারে রাখা ছিল। লকারটি ছিল আলমারির ভেতরে। চুরির ঘটনাটি ঘটেছে আনুমানিক অক্টোবর থেকে নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে। তবে ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ ধরা না পড়লেও সত্য চাপা থাকল না। বেয়াব্রু হল চুরি। বেঙ্গালুরু যাওয়ার আগে লকার খুলতেই বিষয়টি সামনে এসে পড়ে। 

 

প্রথমে পরিবারের লোকজন ভাবেন, গয়না হয়তো কোথাও সরানো হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কিছু না পাওয়ায় পুলিশে অভিযোগ করা হয়। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাসাদের ভেতরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই ভিডিও গয়না-চুরির সঙ্গে যুক্ত কিনা। কে সেই ভিডিও তুলেছে, সেই তথ্যও খুঁজে বের করারও চেষ্টা চলছে। 

 

ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই প্রাসাদে গিয়ে তদন্ত করেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াড বা বিশেষ বিভাগীয় কুকুরেরাও কাজ করেছে। ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই প্রাসাদে গিয়ে তদন্ত করেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াডও কাজ করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনও কিছু ছিল কিনা, বা সন্দেহজনক কোনও মানুষের চলাচল সামনে আসছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক দিক থেকে তদন্ত চলছে। তবে অভ্যন্তরীণ লোকজনের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।