আজকাল ওয়েবডেস্ক: বন্ধুর বন্দুক নিয়ে রিল শুট। তখনও ভাবেননি, এটিই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত। অসাবধানতাবশত বন্দুকের ট্রিগারে হালকা চাপ দিতেই নিমেষের মধ্যে সব শেষ। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়তেই সব শেষ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব দিল্লির নিউ অশোক নগরে। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম, পবন। বন্ধুর একটি বন্দুক নিয়ে রিল শুট করছিলেন তিনি। বন্দুকটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। পিস্তল হাতে নিয়ে ম্যাগাজিনে গুলি ভরছিলেন পবন। কীভাবে গুলি ভরতে হয় সেটি শিখিয়েও দেন তাঁর বন্ধু। এমনকী সেই সময় 'সাবধান' করেন তাঁকে।
জানা গেছে, পবন বন্দুকে গুলি ভরার পরেই, সেটি নিজের বুকে ঠেকিয়ে রাখেন। তখনই তাঁর বন্ধু সতর্ক করে বলেন, 'ভুল করে চালিয়ে দিও না কিন্তু।' পবন ভেবেছিলেন বন্দুক লক করা আছে। কিন্তু আদতে তা ছিল না। এরপর বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে, মুখে হাসি নিয়ে রিল শুট করেন।
তখনই অঘটন ঘটে। আচমকাই ট্রিগারে চাপ পড়ে। পবনের বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায় গুলি। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গোটা ঘটনাটিই ক্যামেরাবন্দি করেন তাঁর বন্ধু। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পবন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভিডিওটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বছর এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বাগানেই রাখা ছিল বাবার বন্দুক। খোলা জায়গায় বন্দুকটি রাখা ছিল, শুধুমাত্র বাঁদরের দলকে ভয় দেখাতে। বাগানে ফুল, ফল নষ্ট করে দেয় বাঁদর। সেই উপদ্রবেই বন্দুকটি রাখা ছিল এক কোণে। দুই ভাই খেলতে খেলতে সেই বন্দুকটি হাতে তুলে নেয়। এরপরই ঘটল চরম পরিণতি। খেলার ছলে বন্দুকটি হাতে তুলে নেয় সাত বছরের নাবালক। অসাবধানতাবশত বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছিটকে লাগে নয় বছর বয়সি নাবালকের বুকে। ভাইয়ের ছোট্ট ভুলে নাবালক দাদার রক্তে ভেসে যায় ফুলের বাগান। চোখের সামনে নাবালকের মর্মান্তিক পরিণতিতে আঁতকে ওঠে পরিবার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের সিরসি জেলায়। খেলাধুলার সময় এয়ার গান থেকে গুলি ছিটকে পড়ে নয় বছর বয়সি নাবালকের শরীরে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত নাবালকের বাবার নাম বাসাপ্পা উদিয়ার। সোমানালি গ্রামের এক বাড়িতে কাজ করেন তিনি। সাত বছর বয়সি ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নাবালক বাড়ির বাইরেই খেলাধুলা করছিল।
জানা গেছে, বাড়ির বাগানেই বন্দুকটি রাখা ছিল। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বাঁদরের উপদ্রব থেকে বাঁচতেই বিশেষত বন্দুকটি সেখানে রাখা ছিল। সেটি নজরে পড়ে দুই ভাইয়ের। খেলতে খেলতে সেই বন্দুকটি তুলে নেয় মৃত নাবালকের ভাই। অসাবধানতাবশত বন্দুকের ট্রিগারে চাপ দিয়ে দেয়। গুলি ছিটকে লাগে নাবালকের বুকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাগানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন একাধিক উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিক। নাবালকের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরসি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটি মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
