আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া ২১ শতকের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সঙ্কটও সফলভাবে মোকাবিলা করেছে ভারত। শনিবার রাজস্থানে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্য, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, সুপরিকল্পিত কৌশল এবং ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার জোরেই দেশকে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।


রাজস্থানের বহু প্রতীক্ষিত রিফাইনারি প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের বহু দেশ যখন জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপে বিপর্যস্ত, তখন ভারত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে।


মোদির কথায়, "একবিংশ শতাব্দীর নতুন ভারতের ইচ্ছাশক্তি এবং প্রচেষ্টাই ২১ শতকের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সঙ্কটকে জয় করেছে।" তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সময়মতো পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে, প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করেছে, দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করেছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সঙ্কট মোকাবিলা করেছে।


বিরোধীদেরও একহাত নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সংকটের সময় কিছু রাজনৈতিক শক্তি গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছিল। অথচ সরকার নীরবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করেছে। তাঁর দাবি, সেই সময় সরকারের ধৈর্য, নীতি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে।


পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি নির্ভর। ফলে ওই প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হলে বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হতে পারত। কিন্তু ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বিকল্প পরিকল্পনার ফলে সেই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যুদ্ধ চলাকালীন ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি সরবরাহে কোনও বড় ধরনের সমস্যা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই এলপিজি সংক্রান্ত সঙ্কট মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।


একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের উপর সেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে দেয়নি কেন্দ্র। সরকার নিজেই সেই ক্ষতির বড় অংশ বহন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।


জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আত্মনির্ভরতার সম্পর্কের উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোনও দেশ তখনই প্রকৃত অর্থে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে, যখন সে জ্বালানির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে। রাজস্থানের নতুন রিফাইনারিকে তিনি ভারতের জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।


এদিন প্রধানমন্ত্রী যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনেরও উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি রাজস্থানের পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, রিফাইনারি প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়েছে। তিনি বলেন, "আমি যে প্রকল্পের শিলান্যাস করি, তার উদ্বোধনও আমিই করি।"


ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যাঁরা বিশ্বের জ্বালানি সঙ্কটের সময় ভারতের ব্যর্থতার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁরা আজ হতাশ। দৃঢ় নেতৃত্ব, কার্যকর কূটনীতি এবং আত্মনির্ভরতার উপর জোর দিয়েই ভারত কঠিন পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিয়েছে বলে তাঁর দাবি।