জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) মেনে স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম দু’বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার প্রক্রিয়া রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কিন্তু এই বড়সড় পরিবর্তনের জেরে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সির মতো প্রথম সারির স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কলা ও বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর স্তর ‘জিরো ইয়ার’ বা শূন্য বর্ষ হতে চলেছে। এর অর্থ হল, চলতি শিক্ষাবর্ষে এই দুটি নামী প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষে কোনও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে না।
2
6
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করে জানিয়েছে। আসলে ২০২৩ সালে যে সমস্ত পড়ুয়া চার বছরের নতুন স্নাতক কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁরা ২০২৭ সালের আগে ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে পারবেন না। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, এই চার বছরের স্নাতক কোর্সের শেষ বর্ষটি পুরনো ব্যবস্থার স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের সমতুল্য। ফলে, এই মুহূর্তে স্নাতকোত্তরে সরাসরি ভর্তি নেওয়ার মতো পাস আউট হওয়া কোনও ব্যাচই ক্যাম্পাসে নেই।
3
6
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, যে সমস্ত প্রথাগত বিভাগে চার বছরের স্নাতক কোর্স চালু রয়েছে, সেখানে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে স্নাতকোত্তরে ‘জিরো ইয়ার’ থাকবে এবং আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এক বছরের স্নাতকোত্তর পর্ব শুরু হবে। তবে বায়োটেকনোলজি বা ভাইরোলজির মতো কিছু আন্তঃবিষয়ক কোর্স, যেগুলির কোনও নির্দিষ্ট স্নাতক স্তর নেই, সেগুলিতে যথারীতি দু’বছরের স্নাতকোত্তর ভর্তি প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
4
6
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ‘৪+১’ শিক্ষানীতির জেরে এবার দিবা বা সান্ধ্যকালীন কোনও সাধারণ কোর্সেই স্নাতকোত্তরে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার স্নাতকোত্তর ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নিয়ম মেনেই শুরু হবে।
5
6
এই ডামাডোলের বাজারে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এবং ভিন্নধর্মী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। যে সমস্ত শিক্ষার্থী চার বছরের স্নাতক কোর্সের মাঝপথে, অর্থাৎ তিন বছর পড়াশোনা করার পর ‘এক্সিট অপশন’ বা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ বেছে নিচ্ছেন, তাঁদের উচ্চশিক্ষার স্বার্থে রবীন্দ্রভারতীতে পুরনো দুই বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সটি চালু রাখা হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাস থেকেই সেখানে কলা, চারুকলা ও দৃশ্যকলা শাখায় এই মাস্টার্স কোর্সের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
6
6
২০২০ সালে মোদি সরকার এই জাতীয় শিক্ষানীতি দেশজুড়ে ঘোষণা করলেও রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রথমে তা লাগু করেনি। যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি এই শিক্ষানীতির তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তবে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নীতি মেনে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়েই তা ধাপে ধাপে লাগু হতে শুরু করে। এবার রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতির এই রূপরেখা আরও সুস্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে কার্যকর হচ্ছে।