আজকাল ওয়েবডেস্কঃ সমাজমাধ্যমে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ছড়িয়েছে একাধিক তথ্য। সেগুলিকে গুজব এবং 'ভুল তথ্য' বলে জানিয়ে কড়া জবাব দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এ নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সাফ জানানো হয়েছে, দেশে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বিক্রি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং নিয়মকানুন মেনেই চালু করা হয়েছে। হঠাৎ করে কোনও 'পরীক্ষামূলক' পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির সিদ্ধান্ত নয়।
সমাজমাধ্যমের নানা পোস্টে যে প্রতি এক লিটার ইথানল তৈরির জন্য ১০,০০০ লিটার জল লাগে বলে দাবি করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারের ব্যাখ্যা, দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্বৃত্ত চাল এবং ভুট্টা থেকে এই ইথানল তৈরি করা হয়। প্রতি লিটার ইথানল তৈরিতে সে জন্য মাত্র তিন থেকে পাঁচ লিটার জল লাগে। সেই জলও পুনর্ব্যবহারযোগ্য।
অটোমেটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া-র গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাড়ির পারফরম্যান্স বা মাইলেজে তেমন কোনও বড় প্রভাব পড়ে না। মেটাল বা প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশের কোনও ক্ষতি হয় না। একমাত্র খুব পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রেই কিছু রবার পার্টস একটু দ্রুত পরিবর্তন করতে হতে পারে।
সরকারের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে গাড়ির ওয়ারেন্টি বা বিমাও বাতিল হবে না, বলে জানিয়েছে গাড়ি প্রস্তুতকারক ও বিমা সংস্থাগুলি। ইথানলে চিনি থাকে বলে পিঁপড়ে বা মৌমাছি আকৃষ্ট হয়, সমাজমাধ্যমে মিডিয়ার এই দাবিও নস্যাৎ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। জানিয়েছে, পরিশোধনের সময় ইথানল থেকে সমস্ত চিনি বাদ দেওয়া হয়। এতে এমন উপাদান থাকে যা পোকামাকড়কে দূরে রাখে। পেট্রলের কারণে গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কে জল ঢুকছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তাও ভুল বলে দাবি সরকারের। আধুনিক গাড়ি এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে জল ঢোকা আটকানোর সমস্ত প্রযুক্তিই রয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য ২০১৪-১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের ১.৯ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। কৃষকদের ১.৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেওয়াও সম্ভব হয়েছে। এছাড়া কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৯৩০ লাখ মেট্রিক টন কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। এমনকি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ভারত পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে।















