আজকাল ওয়েবডেস্ক: মত পার্থক্য্ অনুরাগীদের মন্তব্য-ক্ষোভ। হাই কম্যান্ডের হস্তক্ষেপ। সব মিলিয়ে গত কয়েকদিনে ধরে কর্ণাটকে কুরসি কার, তা নিয়ে জোর জল্পনা। এসবের মাঝেই, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দু'জন এক টেবিলে বসে উপমা-ইডলি নিয়ে খোশ গল্পে মেতেছিলেন। ঠিক তার পরের দিন, ডি কে শিবকুমার আচমকা নিজের 'লিমিট' নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার রবিবার বলেছেন, রাজ্য কংগ্রেসের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও তাঁর মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিবকুমার বলেন, কর্ণাটক কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর "সীমা" অর্থাৎ 'লিমিট' সম্পর্কে ভালভাবে অবগত এবং তাঁর দলের একমাত্র লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একটি কৌশল তৈরি করা।
এদিন তিনি বলেন, 'আমার এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। দলের সভাপতি হিসেবে, আমি আমার সীমাবদ্ধতাগুলি জানি। আমি কোথাও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও মন্তব্য করিনি বা মতপার্থক্য প্রকাশ করিনি। আমরা সকলেই একসঙ্গে কাজ করছি। কর্ণাটকের জনগণের অনেক আশা রয়েছে, সেগুলি পূরণ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ এবং ২০২৯, এবং আমরা এর জন্য কাজ করছি। মুখ্যমন্ত্রী এবং আমি একটি কৌশল তৈরি করব। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে চাই।।'
এর আগে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বুধবার বলেছিলেন, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার পরে এই সমস্যাটির সমাধান করা হবে। খাড়গে সেদিন বলেন, 'কেবল সেখানকার লোকেরাই বলতে পারবেন যে সেখানে সরকার কী করছে। তবে আমি বলতে চাই যে আমরা এই ধরনের সমস্যাগুলি সমাধান করব। হাইকমান্ডের লোকেরা- রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং আমি, একসঙ্গে বসে এই বিষয়ে আলোচনা করব। আমরা প্রয়োজনীয় মধ্যস্থতা করব।' শনিবার বৈঠকে বসার কথা ছিল রাহুলের। তার আগেই, দুই নেতা মুখোমুখি বসেন।
বৈঠকের পর, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, 'আমাদের এজেন্ডা হল ২০২৮ সালের নির্বাচন। স্থানীয় সংস্থা নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা ২০২৮ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেছি। আমরা আলোচনা করেছি যে, আমরা একসঙ্গে দলের হয়ে কাজ করব। আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই এবং ভবিষ্যতেও কোনও মতপার্থক্য থাকবে না।'
তাহলে কি বিরোধের ইতি? সিদ্দারামাইয়া শনিবারেই সাফ জানান, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, হাইকমান্ড যা বলবেন তা আমরা মেনে চলব। আগামীকাল থেকে কোনও বিভ্রান্তি থাকবে না। এখনও কোনও বিভ্রান্তি নেই। কিছু মিডিয়া রিপোর্টার বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।'
