আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে ওঠার জেরে রেকর্ড পতন ঘটল ভারতীয় মুদ্রায়। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে ৯৬.২৫-এ নেমে গেছে।
ফরেক্স ট্রেডারদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং ইরানের চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক চাপ উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলোর ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতীয় টাকাও এখন স্পষ্টতই সেই চাপের মুখোমুখি। সোমবার বাজার খোলার সময় ডলার প্রতি টাকার দাম ছিল ৯৬.১৯, যা সময়ের সঙ্গে আরও ৪৪ পয়সা পড়ে গিয়ে ৯৬.২৫-এর ঐতিহাসিক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এর আগে গত শুক্রবারও টাকার মূল্যে বড়সড় ধস নেমেছিল এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে তা ৯৫.৮১ পয়সায় বন্ধ হয়েছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি বেশ কঠিন হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBI) এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে। আমদানি ব্যয় এবং ডলারের বহির্গমন কমাতে সরকার সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতু আমদানির ওপর কাস্টমস ডিউটি বা আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ (৩ শতাংশ আইজিএসটি-সহ কার্যকর শুল্ক ১৮ শতাংশের বেশি) করেছে। পাশাপাশি রূপা আমদানির ওপর লাইসেন্সিং বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। ফরেক্স বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আপাতত ডলার-রুপির জোড়ের জন্য ৯৬.০০ থেকে ৯৬.৫০ এর স্তরটি একটি শক্তিশালী রেজিস্ট্যান্স এরিয়া হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১১ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে টাকার ওপর এই চাপ বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মুদ্রাবাজারের এই ধাক্কা এসে লেগেছে দেশের শেয়ার বাজারেও। টাকার ঐতিহাসিক পতনের জেরে সোমবার সকালের ট্রেডিংয়ে বড়সড় ধস নামে দালাল স্ট্রিটে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ৮৩৩.২০ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ৭৪,৪০৪.৭৯ অঙ্কে নেমে আসে। অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ২৩৪ পয়েন্ট হারিয়ে ২৩,৪০১.৭০ স্তরে লেনদেন শুরু করে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) গত শুক্রবারও বাজারে ১,৩২৯.১৭ কোটি টাকার শেয়ার কিনে নিট ক্রেতা হিসেবে থাকলেও, সোমবারের আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক হাওয়া ঘরোয়া শেয়ার সূচককে ধরে রাখতে পারেনি।
তবে এই সংকটের মধ্যেও একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। গত শুক্রবার প্রকাশিত ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬.২৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯৬.৯৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের সপ্তাহে এই রিজার্ভ প্রায় ৭.৭৯৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে ডলারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং রুপির পতন আরও আটকাতে আগামী দিনে আরবিআই নিজেদের এই বিশাল রিজার্ভ ব্যবহার করে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।















