আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডাক্তারির প্রবেশিকা নিট-এর প্রশ্নফাঁসের পর সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রশ্নচিহ্নের মুখে। ১৩ মে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এর দ্বাদশের ফল ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। দ্বাদশের পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি এবং গরমিল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এর আগে সিবিএসই-র তরফে বিবৃতি জারি করে এই নিয়ে সাফাই দেওয়া হয়েছে। এ বার পড়ুয়াদের ক্ষোভের সম্মুখীন হয়ে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।
এ বছর সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন বা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ বার ওএসএম ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করলেও নিজেদের ভুল কার্যত মেনে নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব সঞ্জয় কুমার। জানালেন, প্রায় ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্রের মধ্যে মাত্র ১৩,০০০ খাতায় কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা সেগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারায়, পরবর্তীতে খাতাগুলি ম্যানুয়ালি অর্থাৎ হাতে কলমে খতিয়ে দেখে সংশোধন করা হয়েছে। তবে এর জন্য এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়নি।
শিক্ষাসচিব বলেন, "মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সমতা বজায় রাখতেই ওএসএম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পড়ুয়াদের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রধান। ২০১৪ সালে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু এখন এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। আইসিএআই, আইবি এবং কেমব্রিজের মতো সংস্থাও এই একই ব্যবস্থা প্রয়োগ করে।"
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থারাখা হয়েছিল। ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি উত্তর আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। খাতা দেখার জন্য প্রায় ৭৭,০০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সিবিএসই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, খাতা মূল্যায়নে কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়নি। শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা ঠিক করে নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও এই ব্যবস্থাই চালু থাকবে।
তবে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জেরে বোর্ড খাতা পুনর্মূল্যায়ন বা রিভিউ এবং সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে। একটি বহুস্তরীয় রিভিউ মেকানিজম বা খাতা পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে তাদের তরফে। আগামী ১৯ মে থেকে ২২ মে-র মধ্যে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের মূল্যায়িত উত্তরপত্রের স্ক্যান কপির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর তাঁরা খাতা যাচাই বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। উত্তরপত্রের স্ক্যান কপির জন্য প্রতি খাতা পিছু ১০০ টাকা এবং প্রতি প্রশ্নের পুনর্মূল্যায়নের জন্য ২৫ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। তবে রিভিউয়ের পর যদি কোনও পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়ে, তাহলে সেই ফি ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার প্রকাশিত হয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-র দ্বাদশের পরীক্ষার ফল। ফলপ্রকাশের পরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় জোর চর্চা। বহু পরীক্ষার্থীই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং গণিত-এর মতো বিষয়ে আশানুরূপ নম্বর পাননি। এ জন্য বোর্ডের 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' বা ওএসএম ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক।















