আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ঘিরে সংঘাত হয়। সেই সংঘাতে চীন, পাকিস্তানকে স্যাটালাইট দিয়ে সহায়তা করেছিল। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন এক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে যে, সেই স্যাটেলাইট সহায়তার ফলে ইসলামাবাদ তার রাডার ও আকাশ কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একযোগে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিল। 

এই সংঘাতের পর থেকেই ভারত, বিদেশি মহাকাশযানের সম্ভাব্য হুমকি ঘিরে, আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। ফলে চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে ভারত আরও বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে। পাশাপাশি তৈরি করবে আরও বেশি বডিগার্ড স্যাটালাইট। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নানান বেসরকারি স্টার্টাপগুলিকে এই বডিগার্ড স্যাটেলাইট বানানোর অনুরোধ করেছে। পরবর্তীতে এই সমস্ত প্রযুক্তি, সরকারি সংস্থাগুলি অধিগ্রহণ করবে। 

এই স্যাটেলাইট দেহরক্ষা মূলক প্রজেক্টের সাথে যুক্ত কিছু সূত্রের কথায়, মহাকাশে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় ভারত নিজের মহাকাশ কেন্দ্রিক সমস্ত সম্পদ রক্ষা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। উক্ত সূত্রেরা নাম প্রকাশ করতে  অনিচ্ছুক। তাঁরা জানান, এই স্যাটেলাইটের  মূলত তিনটে কাজ। মহাকাশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশযানকে এসকর্ট করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কক্ষপথে আগত সমস্ত হুমকি বা আক্রমণের মোকাবিলা করা। 

ভারতের মহাকাশ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার একমাত্র কারণ পাকিস্তানের সাথে সংঘাতই নয়। ২০২৪ এর আরও একটি ঘটনা ভারতকে মহাকাশের সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। একটি প্রতিবেশী দেশের মহাকাযান ভারতীয় এক মহাশযানের এক কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসে। কোন দেশের মহাশযান, তা বোঝা যায়নি। ভারতের যে স্যাটেলাইটের  কাছে এসে যায়, তা মূলত ম্যাপিং ও নজরদারির মতো সামরিক কাজে ব্যবহার করা হয়। 

&t=21s

কিন্তু, এই বডিগার্ড স্যাটেলাইটের  প্রজেক্ট, ভারতের জন্য আরও জরুরী হয়ে ওঠে পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত সংঘাতের পরে। সেই সংঘাত, দুই দেশকে প্রায় যুদ্ধের দোরগোড়ায় এনে ফেলেছিল। চারদিনব্যাপী সেই সংঘাত, পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইটের ব্যাপকভাবে ব্যাবহার করা হয়েছিল। এই পর্যবেক্ষণে ভারতের কিছু দুবর্লতা চোখে পড়ে। ফলে, ভারত সেই দুর্বলতাকে ঘিরে এবার তৈরি করতে চলেছে বডিগার্ড স্যাটালাইট। 

ভারতের মকাহাশ সংস্থা, ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-কে এই বিষয়ে মন্তব্য করার অনুরোধ করলেও এখনও কোনও উত্তর আসেনি। বর্তমানে ভারতীয় স্পেস অ্যসোসিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল, যিনি আগে ভারতের সামরিক সেনাপ্রধান ছিলেন, তিনি জানান, “স্যাটেলাইটের  সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। যে দেশ, মহাকাশকে কেন্দ্র করে, শক্তিশালী হতে চায়, গুরুত্বপূর্ণ হতে চায়, তাকে নিজের সম্পদ রক্ষার জন্য কাইনেটিক এবং নন-কাইনেটিক ক্ষমতা তৈরি করতেই হবে।” 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী চীন মহাকাশে স্যাটেলাইটের  ডগফাইটিং অনুশীলন করে। ডগফাইটিং মানে, অন্যের স্যাটেলাইটের  আওতায় আসা, তার কাজে বিঘ্ন ঘটানো ইত্যাদি। চীনের বর্তমানে ১,১০০-র বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে, যেখানে ভারতের রয়েছে মাত্র ১০০-এর কিছু বেশি। চীন অন্যের স্যাটেলাইট সবরকমভাবে বিরক্ত করার দক্ষতায় পৌঁছিয়েছে। পাশাপাশি জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও বডিগার্ড স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ডিফেন্স ফান্ড ২০২৩ সাল থেকেই এই প্রেক্ষিতে কাজ করছে। ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ও ইউনাইটেড আরব এমিরেটসের মতো দেশগুলোর সঙ্গে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ও মনিটরিং বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছে। 

ভারতের স্টার্ট আপগুলি মূলত দু’ধরণের স্যাটেলাইট  নিয়ে কাজ করছে। রোবোটিক আর্ম স্যাটেলাইট, যার মূল কাজ যে স্যাটালাইট শত্রুসুলভ কাজ করবে তাকে ধরে কক্ষপথ থেকে বের করে দেওয়া। সেজন্য এই স্যাটেলাইটের  দুটো হাত রাখার ব্যবস্থাও করছে তারা। অপরটি, এনক্লোজার স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইটের  কাজ, আক্রমণকারী স্যাটেলাইটকে  চারিদিক দিয়ে ঘিরে ফেলা। এবং ভারতের স্যাটেলাইটের  থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। 

এই পরিকল্পনার বড় লক্ষ হল, ৫০ টিরও বেশি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো যারা গুপ্তচরের মতো কাজ করবে। পাশাপাশি যেকোনও আবহাওয়ায় ছবি তোলার ক্ষমতাও এদের থাকবে। যাতে রাতে, বা যেকোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ভারতের কাছে তার সীমান্তের গতিবিধির সমস্ত আপডেট থাকে। 

এই পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী। ভারতের মহাকাশ সংস্থা ও বেসরকারি অংশীদাররা ১৫০-টি পর্যন্ত নতুন স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। দেশের সীমান্তে আকাশপথে সবসময়ের জন্য নজরদারীর ব্যবস্থা করছে ভারত। পাশাপাশি বিদেশী স্যাটেলাইটকে পর্যবেক্ষণ করার পথও চওড়া করছে ভারত।