আজকাল ওয়েবডেস্ক: আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির (এএমইউ) চত্বর মানেই সিরিয়াস রাজনীতি, ভারী সব ভাষণ আর গম্ভীর আলোচনার আবহ। কিন্তু সেই চেনা ছবিটাকেই যেন এক লহমায় বদলে দিলেন এক ছাত্র। হোস্টেল নির্বাচনের সাধারণ এক ভাষণকে তিনি রূপ দিলেন নিখাদ বিনোদনে। তাঁর আত্মবিশ্বাস, নাটুকে বাচনভঙ্গি আর অদ্ভুত সব প্রতিশ্রুতি এখন নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।
আয়ুব নামের এই ছাত্রটি এএমইউ-এর নাদিম তারিন হলের রিপ্রেজেন্টেটিভ পদের জন্য লড়ছেন। সম্প্রতি তাঁর ভাষণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি যখন কথা বলা শুরু করছেন তখন উপস্থিত সবার মধ্যে এক অন্যরকম উন্মাদনা। ভিডিওর শুরুতেই আয়ুব বেশ শান্ত গলায় দাবি করেন যে তিনি কোনও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেবেন না। কিন্তু ঠিক তার পরেই তিনি যা যা বলতে শুরু করেন, তা শুনে হাসির রোল ওঠে উপস্থিত ছাত্রদের মধ্যে।
হোস্টেলে এসি বসানো থেকে শুরু করে সুইমিং পুল তৈরি— বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি জামাকাপড় কাচার ঝামেলা মেটাতে প্রতিটি তলায় ওয়াশিং মেশিন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি হাততালি আর শিস পড়েছে যখন তিনি দিনে তিনবার চা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একজন হোস্টেল পড়ুয়ার কাছে এর চেয়ে বড় ‘ইমোশন’ আর কী বা হতে পারে! কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে আয়ুব যখন ঘোষণা করলেন যে হোস্টেল থেকে কলেজের দূরত্ব কমাতে তিনি ‘মেট্রো’ চালু করবেন, তখন গোটা ভিড় ‘আয়ুব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল কোনও রাজনৈতিক সভা নয়, বরং কোনও বড় মাপের কনসার্ট চলছে।
আয়ুবের এই ভাষণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁর কথা বলার ভঙ্গি। বিদেশি ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সাবলীল হিন্দিতে তিনি যেভাবে বিরতি নিয়ে, অভিব্যক্তি দিয়ে কথা বলেছেন, তা দেখে অনেকেই তাজ্জব বনে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা মজা করে বলছেন, আয়ুব বোধহয় ভারতীয় রাজনীতি খুব ভালোভাবেই রপ্ত করে ফেলেছেন। অনেকেই আবার এই দৃশ্যটিকে জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চতুর রামালিঙ্গমের সেই বিখ্যাত ভাষণের দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ফেসবুক ও এক্স-এ মন্তব্যকারীদের অনেকেই বলছেন, “ইন্ডিয়া একে ঠিকঠাক ট্রেনিং দিয়ে দিয়েছে।” কেউ আবার রসিকতা করে লিখেছেন, “ইঞ্জিনিয়াররা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সব পারে।” বিশেষ করে তাঁর সেই তিনবার চা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মন জয় করে নিয়েছে অনেকের। সব মিলিয়ে, সিরিয়াস নির্বাচনের মাঝে আয়ুবের এই ‘ফিল্মি’ প্রচার এখন আলিগড় ছাড়িয়ে গোটা দেশের মানুষের কাছে এক হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতেই, ভোট তিনি পান বা না পান, মানুষের মন জয় করতে তিনি যে ইতিমধ্যেই সফল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।















