আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও হতাশ হতে হল টিভিকে প্রধান বিজয়কে। বৃহস্পতিবার ফের রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানান তিনি।
তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁর প্রস্তাব খারিজ করে দেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল আরলেকর এদিন বিজয়কে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার গঠনের জন্য আগে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিতে হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত শপথগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল বিজয়কে এদিন বলেন, ‘১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে আসুন। টিভিকে-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করুন, তারপরই শপথ নিতে পারবেন।’
রাজ্যপালের দাবি, লিখিত সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন হলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে পড়তে পারে। তাই স্থায়ী সরকার নিশ্চিত করতেই এই শর্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বুধবার ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয়।
পরে কংগ্রেসের আরও পাঁচ বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার কথাও তিনি মৌখিকভাবে জানান বলে সূত্রের দাবি। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যপালের কাছে আরও কিছু সময় চান জোটে বিধায়কের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।
তবে রাজ্যপাল সেই সমর্থনকে পর্যাপ্ত বলে মনে করেননি। তিনি ফের ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিজয়কে রাজ্যপালের বাসভবনে ডেকে পাঠানো হয় এবং তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়, সূত্রের খবর তেমনটাই। এর মধ্যে ছিল, তিনি কীভাবে মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক (অর্থাৎ তাঁর ১০৮ জন এবং কংগ্রেসের পাঁচজন) নিয়ে সরকার চালাবেন এবং অন্য কোন দল তাঁকে এই পরিস্থিতিতেও সহায়তা করতে পারে, প্রশ্ন করা হয়েছে তা নিয়েও।
তাঁকে ভবিষ্যৎ জোটসঙ্গী সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হয়; টিভিকে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা দুটি বাম দল এবং দুটি আঞ্চলিক দলের কাছ থেকে ছ'টি আসন পাবে বলে আশা করছে। সূত্রের খবর, বিজয় জানিয়েছেন তিনি, তিনি আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বিজয় প্রথাগত 'দ্রাবিড়ীয় রাজনীতি'র বাইরে গিয়ে এক নতুন বিকল্পের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যুবসমাজ এবং মহিলাদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান ডিএমকে (DMK) সরকারের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে এখন এক নতুন নেতার অভিষেক হতে চলেছে, যা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট।















