আজকাল ওয়েবডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অনমনীয় অবস্থান এবং 'জিরো টলারেন্স' নীতিকে আরও শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভারত দীর্ঘকাল ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া নিরপরাধ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কোনও অবস্থাতেই হিংসা বা নাশকতার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই নয়াদিল্লি তার সন্ত্রাসবিরোধী নীতি সাজিয়েছে, যেখানে সীমান্তপারের মদতপুষ্ট জিহাদি গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে দেশের নিরাপত্তার প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী সীমান্তগুলো থেকে মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ভারতের জন্য দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ। আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ার (ISIS) মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ভারতে স্লিপার সেলের মাধ্যমে হিংসা ছড়ানোর এবং যুবসমাজকে প্ররোচিত করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার করে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীরা এখন কেবল প্রথাগত অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা এনক্রিপশন, ডার্ক ওয়েব এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে আর্থিক লেনদেন ও নাশকতার ছক কষছে।
প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রুখতে ভারত সরকার তার গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) অধীনে থাকা 'মাল্টি-এজেন্সি সেন্টার' (MAC) এবং 'জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স অন ইন্টেলিজেন্স' (JTFI) এখন কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর পুলিশ বাহিনীর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করছে। এর পাশাপাশি 'ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার' (OGW) বা যারা জঙ্গিদের রসদ, অর্থ ও আশ্রয় দিয়ে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে, তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দেশজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদী হামলার মোকাবিলা করা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমস্ত স্তরের কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (SOP) মেনে কাজ করে।
ভারতের এই সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে আইনি কাঠামোর পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে যে, ইউএপিএ (UAPA)-র মতো কঠোর আইন প্রয়োগের সময়ও মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং অভিযুক্তদের জন্য নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি প্রতিকারের সব পথ খোলা থাকে। এছাড়া, উগ্রপন্থার পথে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে ডাক্তার, মনোবিদ এবং ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল কাজ করছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই সমস্যা মোকাবিলায় ভারত অন্যান্য দেশ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতের হুমকিগুলো কমানোর অঙ্গীকার করেছে।
