আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারতের অবস্থানের আরও অবনতি হয়েছে। প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স সান ফ্রন্টিয়ার্স’ (RSF) বা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান এখন ১৫৭তম। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভারত এই তালিকায় ১৫১তম অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারত আরও ছয় ধাপ নিচে নেমে গেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিচারে ভারত এখনও ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ (Very Serious) পর্যায়ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেই রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের ওপর নজরদারি চালানো এই বিশ্বখ্যাত সংস্থাটি ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছর এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও সংবাদমাধ্যমকে স্তব্ধ করে দিতে আইনি কাঠামোকে রীতিমতো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে সংস্থাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, দেশটিতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর বিচার বিভাগীয় হয়রানি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে মানহানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো ফৌজদারি আইনের যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এবারের সূচকে বিশ্বজুড়ে এক আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সূচক প্রবর্তনের পর এই প্রথমবার দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিরিখে ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ স্তরে অবস্থান করছে। যেখানে ২০০২ সালে এই তালিকায় থাকা দেশের হার ছিল মাত্র ১৩.৭ শতাংশ, সেখানে আজ সেই পরিস্থিতি বহুগুণ খারাপ হয়েছে। গোটা বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোরও এবার রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের অপপ্রয়োগ এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতেও তথ্যের অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স মূলত পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোর মূল্যায়ন করে থাকে— অর্থনৈতিক, আইনি, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ। সংস্থাটির দাবি, গত এক বছরে সারা বিশ্বে আইনি সূচকের সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে, যা সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এক আন্তর্জাতিক প্রবণতাকে স্পষ্ট করে তোলে। ভারত ছাড়াও মিশর, ইজরায়েল ও জর্জিয়ার মতো দেশগুলোতে পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। জরুরি অবস্থা এবং সাধারণ আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার এই প্রক্রিয়া এখন একটি বিশ্বজনীন সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের অবস্থান নেপাল (৮৭তম), মালদ্বীপ (১০৮তম), শ্রীলঙ্কা (১৩৪তম), ভুটান (১৫০তম), বাংলাদেশ (১৫২তম) এবং পাকিস্তানের (১৫৩তম) চেয়েও নিচে। তবে ভারত এখনও মিয়ানমার (১৬৬তম), আফগানিস্তান (১৭৫তম) এবং চীন (১৭৮তম) থেকে কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। তালিকার একেবারে শীর্ষে অর্থাৎ প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং এস্তোনিয়া। অন্যদিকে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিরিখে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও পতন ঘটেছে; তারা সাত ধাপ নিচে নেমে বর্তমানে ৬৪তম স্থানে অবস্থান করছে।