তরমুজ গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে বর্তমানে অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজে বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন বা কৃত্রিম রং ব্যবহার করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
2
14
সম্প্রতি তরমুজ খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের ৪ জন। ফলে তরমুজে খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই তরমুজে কেমিক্যাল বা ভেজাল মেশানো হয়েছে কিনা, তা বোঝা জরুরি। যার জন্য কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে।
3
14
তরমুজের ওপরের অংশ বা খোসা পরীক্ষা করুনঃ তরমুজ কেনার সময় প্রথমেই এর বাইরের দিকটা ভাল করে দেখুন।
4
14
ছিদ্র বা দাগ: তরমুজের গায়ে কি কোনও ছোট ছিদ্র বা সুঁই ঢোকানোর মতো দাগ আছে? অসাধু ব্যবসায়ীরা সিরিঞ্জের মাধ্যমে রাসায়নিক ভেতরে পাঠায়। যদি দেখেন কোনও এক জায়গায় ছোট গর্ত বা পচাটে দাগ, তবে সেই তরমুজ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
5
14
সাদা পাউডার: অনেক সময় তরমুজের ওপরে সাদা ধুলোর মতো পাউডার লেগে থাকে। এটি মূলত কার্বাইড বা অন্যান্য কীটনাশক হতে পারে। তাই কেনার পর তরমুজ ভালো করে ধোয়া খুব জরুরি।
6
14
ভেতরের রং ও গঠন দেখুনঃ কাটার পর তরমুজটি দেখতে কেমন, তা থেকে অনেক কিছু বোঝা যায়।
7
14
অস্বাভাবিক লাল রং: প্রাকৃতিকভাবে পাকা তরমুজ লাল হলেও তাতে একটা সতেজ ভাব থাকে। কিন্তু যদি দেখেন তরমুজটি একদম টকটকে গাঢ় লাল এবং কাটার সঙ্গে সঙ্গে লাল রস বেরিয়ে আসছে, তবে বুঝতে হবে এতে 'এরিথ্রোসিন' নামক কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে।
8
14
গর্ত বা ফাঁপা অংশ: তরমুজ কাটার পর যদি দেখেন মাঝখানে অনেকটা অংশ ফাঁপা বা বড় বড় ফাটল রয়েছে, তবে সেটি হরমোন ইনজেকশন যেমন- অক্সিটোসিন দিয়ে দ্রুত বড় করার লক্ষণ হতে পারে।
9
14
টিস্যু পেপার টেস্ট (সবচেয়ে সহজ উপায়)ঃ এটি বাড়িতে করার মতো সবচেয়ে কার্যকরী পরীক্ষা।
10
14
এক টুকরো সাদা টিস্যু পেপার বা তুলা নিন। তরমুজের লাল অংশে টিস্যুটি দিয়ে হালকা চাপ দিন বা ঘষুন। যদি টিস্যু পেপারে গাঢ় লাল রং লেগে যায়, তবে নিশ্চিতভাবে এতে কৃত্রিম রং আছে। কারণ প্রাকৃতিক তরমুজের রস টিস্যুতে লাগলে তা হালকা গোলাপি বা জলছাপের মতো দেখায়, গাঢ় লাল হয় না।
11
14
জলের পরীক্ষাঃ একটি পাত্রে জল নিন এবং তাতে তরমুজের একটি ছোট টুকরো ফেলে দিন। যদি জল সঙ্গে সঙ্গে লাল বা গোলাপি হয়ে যায়, তবে বুঝবেন এতে ভেজাল রং আছে। প্রাকৃতিক তরমুজের ক্ষেত্রে জল লাল হতে বেশ সময় নেয় এবং তা খুব হালকা হয়।
12
14
স্বাদের পার্থক্যঃ রাসায়নিক দিয়ে পাকানো তরমুজ দেখতে খুব সুন্দর হলেও খেতে তেমন মিষ্টি হয় না। অনেক সময় মুখে দিলে কৃত্রিম একটা ওষুধের মতো গন্ধ বা তিতকুটে স্বাদ পাওয়া যায়। এছাড়া ইনজেকশন দেওয়া তরমুজ খুব দ্রুত পচে যায় এবং কাটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।
13
14
কেমিক্যালযুক্ত তরমুজ খেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, লিভারের ক্ষতি এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
14
14
বাজার থেকে তরমুজ কিনে আনার পর অন্তত ১ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ওপরের স্তরে থাকা রাসায়নিকের প্রভাব কিছুটা কমে। সম্ভব হলে কাটার পর কিছুক্ষণ রেখে দিন, যদি দেখেন অস্বাভাবিক জল বের হচ্ছে বা রলু বদলে যাচ্ছে, তবে সেটি না খাওয়াই ভাল।