আজকাল ওয়েবডেস্ক: আপাতত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনায় জল ঢাললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বৃহস্পতিবার খাড়গে জানিয়েছেন যে, কর্নাটকে নেতৃত্বের পদে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দলের অভ্যন্তরে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকলেও, এই বিষয়টি "শীঘ্রই" সুরাহা হয়ে যাবে।

সাংবাদিকদের খাড়গে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগবে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করেই সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কর্নাটকের বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে খারগে বলেন, "এখানে ইতিমধ্যেই একজন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন।"

কংগ্রেস সভাপতি আরও যোগ করেন, "যদি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং আমি - আমরা তিনজন মিলে পরিবর্তনের লক্ষ্যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাই, তবে তার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। আসুন, আমরা অপেক্ষা করি এবং দেখি।" এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আপাতত কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নেই।

কর্নাটকে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই খাড়গের এই মন্তব্য সামনে এল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে কংগ্রেস সরকার তাদের মেয়াদের অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর থেকেই এই জল্পনা জোরদার হয়েছে।

২০২৩ সালে কংগ্রেস, কর্নাটকে সরকার গঠনের সময় মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে একটি "ক্ষমতা-বণ্টন" চুক্তি হয়েছিল বলে জানা যায়। যা এই জল্পনার আগুনে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

শিবকুমারের সমর্থকরা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তবে খাড়গে বেশ সতর্ক সুরেই কথা বলেছেন, "আপাতত" কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না এবং যেকোনও সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরীণ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হবে।

'সবই ভাগ্যের লিখন': মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে জল্পনার জবাবে খাড়গে
কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরা-সহ অন্যদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যে খোদ খাড়গেকেই হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। খাড়গে আপাতত সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, "আপনারা (সংবাদমাধ্যম), তিনি (পরমেশ্বরা) এবং দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা অনেকেই বলেন যে, আমি মুখ্যমন্ত্রী হলে সেটাই সবচেয়ে ভাল হবে। কিন্তু ভাগ্যের চেয়েও বড় কথা হলো, আমার নিজস্ব আদর্শ এবং এযাবৎ দলের প্রতি আমার সেবার কথা বিবেচনা করে - আমার বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত সোনিয়া গান্ধীই গ্রহণ করে থাকেন।"

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "আপাতত সেই প্রশ্নটিই ওঠে না।" এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন যে, নেতৃত্বের পদে পরিবর্তনের বিষয়টি বর্তমানে কোনওভাবেই তাৎক্ষণিক বিবেচনার পর্যায়ে নেই। 

বিধায়কদের ভ্রমণ সংক্রান্ত দাবির জবাব
জেডি(এস) নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী দাবি করেছিলেন যে, নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের আবহে প্রায় ৪০ জন কংগ্রেস বিধায়ক দিল্লির টিকিট কেটেছেন, কংগ্রেস নেতা খাড়গে নিজেকে ওই দাবি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

দলের অন্দরে নানা জল্পনা-কল্পনা এবং পরস্পরবিরোধী দাবি-দাওয়া সত্ত্বেও, খাড়গে আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, কংগ্রেস নেতৃত্ব এই বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণভাবেই সুরাহা করবে।

কর্নাটকের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "আমরা যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করব।" আদপে তাঁর ইঙ্গিত, দল সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো সম্পর্কে অবগত থাকলেও, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাড়াহুড়ো করছে না।