আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর মসনদে কিংমেকার হতে পারে বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম' (টিভিকে)। ভোট পরবর্তী বিভিন্ন ফলাফল সমীক্ষার এমনই পূর্ভাভাস। এরপরই তামিলভূমে জোর তৎপরতা। এআইএডিএমকে এখন টিভিকে-র সঙ্গে আলোচনার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে সূত্রে খবর। শেষপর্যন্ত টিভিকে কতগুলো আসন পায় তার উপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বলে খবর।

'অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া'-র পূর্বাভাসে ২৩৪ আসন বিশিষ্ট্য তামিল বিধানসভায় বিজয়ের দল ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে ও তাদের জোট সঙ্গী কংগ্রেস ৯২ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে বলে ওই সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, এনডিএ জোট (এআইএডিএমকে ও বিজেপি) ২২ থেকে ৩২টি আসন জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, টিভিকে প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের প্রাপ্ত ভোটের সমতুল্য। এর পাল্টা, এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রাপ্ত ভোটের হার প্রায় ২৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের গ্রহণযোগ্যতাই এখন সর্বাধিক। প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তাঁর দিকেই। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন ৩৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন।

তরুণ ভোটারদের মধ্যে টিভিকে-র প্রতি প্রবল সমর্থনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী নতুন ভোটারদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ৪৫ শতাংশের সমর্থন রয়েছে বিজয় নেতৃত্বাধীন টিভিকে-র প্রতি।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং শহুরে ভোটারদের মধ্যে টিভিকে-র ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি, অন্যান্য অনগ্রসর জাতি ও তফশিলি জাতি-উপজাতি সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু ভোটার এবং শহর ও গ্রাম - উভয় এলাকার ভাটারদের মধ্যেও টিভিকে-র অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে।

বুথফেরৎ সমীক্ষায়'পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা'-কে একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোট প্রদানের মূল কারণ হিসেবে এই বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। টিভিকে-র সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে ৭৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ৪ মে ভোট গণনা, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে প্রধান বিজয়ের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে তার উত্তর সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে।

(এক্সিট পোল বা বুথফেরৎ সমীক্ষা মূলত সেইসব মানুষের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের সামগ্রিক মনোভাব বা মেজাজ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া, তবে অনেক সময় এই পূর্বাভাস ভুলও প্রমাণিত হয়েছে বা হতে পারে।)