আজকাল ওয়েবডেস্ক: তন্ময় মুখোপাধ্যায়, খড়গপুর আইআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নামী ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কে উচ্চপদস্থ কর্মী ছিলেন। ২০১৩ সালে, প্রতিদিনের একঘেয়েমির জীবন থেকে মুক্তি পেতে তিনি লক্ষাধিক টাকার বেতনের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তন্ময় জানান, উচ্চপদস্থ কর্মী হয়েও, মোটা টাকা বেতন পেয়েও তিনি শান্তি পাচ্ছিলেন না। তিনি মনে করেন, জীবন শুধুমাত্র রোজগার, সঞ্চয় বা কাজের জন্য নয় বরং অভিজ্ঞতার জন্য। ৩৮ বছর বয়সের মধ্যে তিনি ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাঙ্কের একজন ডিরেক্টর হিসেবে উচ্চ পদে কাজ শুরু করেন এবং এমন বেতন পেতে শুরু করেন যা বেশিরভাগ মানুষেরই আকাঙ্ক্ষা থাকে।
কর্মজীবনে সাফল্য, বড় পদ ও আর্থিক স্থিতি—সবই ছিল তাঁর জীবনে। কিন্তু এত কিছু থাকার পরও মনে এক ধরনের শূন্যতা ছিল। তাঁর কথায়, "উচ্চ পদ বা নামী সংস্থা আমাকে তৃপ্তি দিচ্ছিল না।" এই অনুভূতি থেকেই জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ধীরস্থির, আরামদায়ক জীবন ছেড়ে নিজের স্বপ্নপূরণ করার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি নিজের চার কামরার দামি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থকে ব্যবহার করেন ঘুরে বেড়ানোর জন্য।
বর্তমানে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন । বিশ্ব ভ্রমণের খরচ জোগাড় করতে এবং চাকরির পিছুটান থেকে মুক্তি পেতে তিনি তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং দামি গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি কেবলমাত্র অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে একা ভ্রমণ করতেন। পরবর্তী ১৮ মাসে তিনি ৩৫টি দেশ ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, "রাশিয়ার পাহাড় থেকে মিশরের মরুভূমি পর্যন্ত আমি কাউকে চিনতাম না, এবং প্রথমবারের মতো আমি নিজেকে চিনতে পারলাম।" তিনি তাঁর এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন, যা দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর মতে, "সম্পদ জমানোর চেয়ে স্মৃতি জমানো অনেক বেশি তৃপ্তির।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি উচ্চ বেতনের ব্যাঙ্কিংয়ের চাকরি ছেড়ে বিশ্বভ্রমণের জন্য এক আইআইটি স্নাতকের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। 'হিউম্যানস অফ বোম্বে' নামের একটি সংস্থা ইনস্টাগ্রামে তাঁর এই গল্পটি শেয়ার করে, যা অনেকের মনেই দাগ কেটেছে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল চর্চা চলছে। অনেকেই তাঁর সাহসী পদক্ষেপকে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করছেন। তবে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল এবং খুশি, কারণ অবশেষে তিনি এমন একটি জীবন বেছে নিয়েছেন, যা তাঁকে সত্যিকারের তৃপ্তি দিচ্ছে।
