পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলনের ময়দানে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আজ পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে।
2
13
কাঁথির রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় বাবা তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারীর হাত ধরে।
3
13
পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশ সামন্ত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জি-সহ একাধিক মনীষীর আদর্শে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হন তিনি।
4
13
কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। ছাত্রনেতা হিসেবে দু’বার জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) এবং একবার গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
5
13
২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি।
6
13
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু।
7
13
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে সিপিআইএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
8
13
কিন্তু ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে একই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ভোটে লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন।
9
13
২০১৪ সালেও পুনরায় তমলুক থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
10
13
পরবর্তীতে সাংসদ পদ ছেড়ে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।
11
13
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে মন্ত্রিত্ব ও দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু।
12
13
একই বছরের ডিসেম্বর মাসে মেদিনীপুরের জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি।
13
13
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এরপর বিরোধী দলনেতা হিসেবে টানা রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন তিনি।