আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত দেখা যাবে। গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের একটি অ-দ্রাবিড়ীয় দল রাজ্যে শপথ নিতে চলেছে। কয়েক দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আলোচনার পর তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর সমর্থন পেয়ে টিভিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সক্ষম হয়েছে। টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের এখন ১১৮টি আসন রয়েছে, যা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট।

টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে রাজ্যপালের তরফ  থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, আগামী পাঁচ বছর বিজয় কীভাবে অতি সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একটি জোট সরকার পরিচালনা করেন, সেদিকেই সবার দৃষ্টি থাকবে। এমনকি দু’এক জন বিধায়কের বিদ্রোহও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে এবং বিজয়কে চাপের মুখে ফেলতে পারে। তিনটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন বিজয়-

পরিস্থিতি ১: সকল দলকে নিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার

তামিলনাড়ুর অধিকাংশ সরকারই স্থিতিশীল থেকেছে। ১৯৫২ সালের পর এটিই তামিলনাড়ুর প্রথম ত্রিশঙ্কু বিধানসভা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকা একটি জোটে এতগুলি দলের ভিড় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কিন্তু বিজেপিকে আটকাতে এখন পর্যন্ত সব দলই একমত।

কংগ্রেস এবং বামের বেশ কয়েকজন নেতা তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধ করতে, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং রাজ্যের রাজনীতি থেকে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দূরে রাখতে চেয়েছেন। উপরন্তু, বিজয় বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন এবং সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা ছোট দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে।

পরিস্থিতি ২: সব দল সরে দাঁড়ালে কী হবে?

যদি বড় ধরনের মতবিরোধের কারণে জোটের সব দল টিভিকে-কে থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা বিজয়ের পক্ষে থাকবে না এবং তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বাধ্য হবেন। যদি তিনি তা করতে ব্যর্থ হন এবং অন্য কোনও বিকল্প না থাকে, তাহলে নতুন নির্বাচন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারেন।

এটি লক্ষণীয় যে বাম দলগুলি কৌশলগত নমনীয়তার পথ বেছে নিয়েছে এবং বিজয়ের সরকারের সঙ্গে পুরোপুরি আবদ্ধ নয়। তারা এও ঘোষণা করেছে যে, তারা কিছু নীতিগত বিষয়ে ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন করবে। এর ফলে এই জোট শরিকের কাছে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে টিভিকে-র ওপর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি ৩: যদি কিছু দল সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে তিনটি দলের মধ্যে কোনও একটি দল টিভিকে থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিজয় এএমএমকে-র মতো অন্যান্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে বাধ্য হবেন। তাঁকে আবার আস্থা ভোটের সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে এবং তা করতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।