আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহু শতাব্দী পুরনো মন্দির ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল তেলেঙ্গানায়। রাজ্যের ওয়ারাঙ্গাল জেলায় কাকতীয় আমলের ৮০০ বছর পুরনো শিব মন্দির ভাঙা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খানাপুর মণ্ডলের অশোক গরে অবস্থিত মন্দিরটি একটি সরকারি স্কুল নির্মাণের জন্য জমি খালি করতে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং ইতিহাস মন্ত্রক রাজ্যের জবাব চেয়েছে। 

তেলেঙ্গানার মানবাধিকার আইনজীবী রমা রাও ইম্মানেনি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একটি মামলা করেছে। প্রত্নতত্ত্ব ও দেবোত্তর বিভাগের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই যে আধিকারিকরা কাজটির অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানা ঐতিহ্য আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একটি বাধ্যতামূলক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

তীব্র সমালোচনার জবাবে, ৬ মে একটি যৌথ পরিদর্শনের পর ওয়ারাঙ্গল জেলাশাসকের দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দির ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, ৩০ একর এলাকা জুড়ে ঘন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় কেবল ‘একটি পুরানো জরাজীর্ণ কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ’ পাওয়া গিয়েছে। আধিকারিকরা উল্লেখ করেছেন যে কাঠামোটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল না।

তবে, জনরোষ প্রশমিত করতে ওয়ারাঙ্গলের জেলাশাসক ডঃ সত্য শারদা এবং নরসামপেটের বিধায়ক দোনথি মাধব রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং একই স্থানে মন্দিরটি সম্পূর্ণরূপে পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ইতিহাসবিদ, স্থপতি (ঐতিহ্যবাহী স্থপতি) এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে এই পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে এবং এর পাশাপাশি স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরক্ষিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ত্রয়োদশ শতকে কাকতীয় শাসক গণপতিদেবের শাসনকালে নির্মিত এই মন্দির প্রাঙ্গণে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিরল সাত পঙক্তির তেলুগু শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে। ওই শিলালিপিতে রাজাকে ‘মহারাজা’ এবং ‘রাজাধিরাজুলু’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ১৯৬৫ সালে নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, এই স্থাপনাটি প্রাচীন দুর্গপ্রাচীরের জন্য পরিচিত ঐতিহাসিক ‘কোটা কাট্টা’ মাটির দুর্গ অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি সহজেই সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা যেত।