নিতাই দে, আগরতলা: স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের সরকারি চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। শুক্রবার আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ১১৫ জন নবনিযুক্ত কর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড: মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং প্রার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পাচ্ছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ২০ হাজার ৯৬০ জনকে চাকরি দিয়েছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিং ও কন্ট্রাকচুয়াল পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ২৪ হাজার ৭৮ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপত্র প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতিশীল করতে সরকার দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ ভাবনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর সাহা বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কারণেই দেশ আজ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশের এমপ্লয়বিলিটির হার ৩৩.৯৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫৪.৮১ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যের প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প সমানভাবে শহর ও গ্রামাঞ্চল, এমনকি এডিসি এলাকাতেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সুফল পাচ্ছেন জাতি-জনজাতি সহ সমাজের সব অংশের মানুষ।

এদিন চাকরির অফার পাওয়াদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও সেবামূলক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়েও এগিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে টেকনিক্যাল কর্মীর ঘাটতি ছিল। সেই ঘাটতি পূরণে সরকার ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।” সরকারি কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ত্রিপুরায় বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ই-অফিস পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতিতে ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, রাজস্ব দপ্তর এবং নির্বাচন দপ্তরে মোট ১১৫ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং টেকনোলজিস্ট পদে ২৭ জন, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদে ৩৯ জন এবং অপটোমেট্রিস্ট পদে ১৯ জন নিয়োগ পান। এছাড়া রাজস্ব দপ্তরে ১৪ জন রেভিনিউ ইন্সপেক্টর এবং নির্বাচন দপ্তরে ১৬ জন ইলেকশন ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগপত্র পান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। নির্বাচন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ঊষাজেন মগ। রাজস্ব দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে।