পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়ের পর, জমি জটে আটকে থাকা রাজ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রেল মন্ত্রক জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2
12
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যে অনুমোদিত রেল প্রকল্পগুলির জন্য মন্ত্রকের মোট ৪,৬৬২ হেক্টর জমির প্রয়োজন। যার মধ্যে এ পর্যন্ত ১,২৭৩ হেক্টরেরও বেশি (২৭ শতাংশ) জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ৯৮,৪৯৯ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রেল।
3
12
রেল মন্ত্রক এবং মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ একটি বড় বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রেল মন্ত্রক রাজ্যকে অধিগ্রহণে সমর্থন না করার জন্য অভিযুক্ত করছিল এবং রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবহেলার অভিযোগ তুলছিল।
4
12
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রেল মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “জমি অধিগ্রহণের কারণে রাজ্যে অন্তত ১২টি বড় প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেবক-রংপো নতুন লাইন, যা প্রথমবারের মতো সিকিমকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।”
5
12
তিনি আরও জানিয়েছেন, “এছাড়া, ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি মেট্রো করিডোরের নির্মাণকাজ চলছে, যার মধ্যে জমি অধিগ্রহণ এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে ২০ কিলোমিটার অংশের কাজ আটকে আছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য মন্ত্রক শীঘ্রই নতুন রাজ্য সরকারকে চিঠি দেবে।”
6
12
মন্ত্রকের জানিয়েছে, বিলম্বিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নবদ্বীপ ঘাট-নবদ্বীপ ধাম নতুন লাইন, যেখানে ১০৭ হেক্টর জমি প্রয়োজন। কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর নতুন লাইনের জন্য ১৬৮ হেক্টর জমি প্রয়োজন, ক্যানিং-বাগানখালি নতুন লাইনের জন্য ১৮ হেক্টর প্রয়োজন।
7
12
এছাড়াও, রুকনি-আনারা রেল ফ্লাইওভার (৩৫ হেক্টর), গৌরীনাথ ধাম-পুরুলিয়া রেল ফ্লাইওভার (৩৪ হেক্টর, কালীপাহাড়ি-বক্তারনগর পঞ্চম লাইন (১৪ হেক্টর) এবং নৈহাটি-রানাঘাট তৃতীয় লাইন (১৩ হেক্টর)-এর জন্য জমি সমস্যা রয়েছে।
8
12
এগুলি ছাড়াও, রেল মন্ত্রক সম্প্রতি জানুয়ারিতে রেলওয়ে বোর্ড কর্তৃক পুনরায় চালু করা ১৭টি প্রকল্পের সমীক্ষা এবং বিস্তারিত প্রকল্পের রিপোর্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে।
9
12
এর মধ্যে রয়েছে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁথি–এগরা নতুন লাইন, নন্দকুমার–বালাইপান্ডা নতুন লাইন (২৮ কিমি), বোয়াইচণ্ডী–আরামবাগ নতুন লাইন (৩১ কিমি), বাঁকুড়া–হুড়া–পুরুলিয়া নতুন লাইন (৬৫ কিমি), রায়গঞ্জ–ডালখোলা নতুন লাইন (৪৩ কিমি), প্রান্তিক–সিউড়ি নতুন লাইন (৩৪ কিমি), ইটাহার–বুনিয়াদপুর নতুন লাইন (২৭ কিমি), গাজোল–ইতাহার নতুন লাইন (২৭ কিমি) এবং বোয়াইচণ্ডী-খানা নতুন লাইন (২৪ কিমি)।
10
12
এক কর্মকর্তা জানান, কম যাত্রী চলাচলের মতো কারণে এই প্রকল্পগুলি আগে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কিন্তু জনগণের দাবির পর এখন তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
11
12
পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে যাওয়া আরও ২১টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। যার মধ্যে রয়েছে ৩০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সোন নগর–আন্দাল (ইডিএফসি ডাবল লাইন), ১৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাগলপুর–দুমকা–রামপুরহাট ডাবলিং, ১৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নারায়ণগড়–ভদ্রক তৃতীয় লাইন, ১৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ খড়গপুর–আদিত্যপুর তৃতীয় লাইন, ১২১ কিলোমিটার দীর্ঘ চান্ডিল–দামোদর তৃতীয় লাইন এবং ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সাঁতরাগাছি–খড়গপুর চতুর্থ লাইন।
12
12
এর পাশাপাশি, রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাওয়া ২৫টি বড় প্রকল্পের সমীক্ষাও চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কাটিহার–কুমেদপুর–আলুবাড়ি সড়ক, নিউ জলপাইগুড়ি–কামাখ্যা তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, ৩৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঝাড়সুগড়া–বাগদিহি–খড়গপুর পঞ্চম ও ষষ্ঠ লাইন, ১৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীতারামপুর–ঝাঝা চতুর্থ লাইন এবং ১৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীতারামপুর–কিউল তৃতীয় লাইন।