আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণ কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০। মর্মান্তিক এই ঘটনার জন্য বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়ালের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করল ছত্তিশগড় পুলিশ। একইসঙ্গে সংস্থার ম্যানেজার দেবেন্দ্র প্যাটেল এবং অন্যান্য আধিকারিকদের বিরূদ্ধেও দায়ের করা হল মামলা।
মঙ্গলবার দুপুরে ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় অবস্থিত বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। কর্মরত ৪০ জন শ্রমিকের মধ্যে মৃতের পাশাপাশি জখম হন কমপক্ষে ১৬ জন। এঁদের মধ্যে অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শক্তি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট প্রফুল্ল ঠাকুর বলেছেন, “বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান-সহ মোট ৮-১০ জনের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।” তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরূদ্ধে মোট তিনটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ ধারা মেনে অবহেলার কারণে মৃত্যু, ২৮৯ ধারায় কারখানায় উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবহেলা এবং ৩-এর ৫ ধারায় সম্মিলিত ভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে অভিযুক্তদের।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, সিংহিতরাই গ্রামের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কাজ চলছিল পুরোদমে। তখনই বয়লার থেকে টারবাইনের দিকে উচ্চচাপের বাষ্প বহনকারী একটি পাইপ আচমকা ফেটে যায়। এর পরেই হয় বিস্ফোরণ। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের হলকা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে।একই তথ্য উঠে এসেছে, শক্তি জেলার ফরেন্সিক সায়েন্সের ল্যাব রিপোর্টেও। তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট গাফিলতির ছাপ রয়েছে। যন্ত্রপাতির মানও তথৈবচ। তার মধ্যে উৎপাদন বাড়াতে বয়লারের ওপর অতিরিক্ত চাপ (৩৫০ মেগাওয়াট থেকে ৫৯০ মেগাওয়াট) প্রয়োগ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই ছত্তিসগড়ের সরকার বিরোধী দল কংগ্রেস বেদান্ত গোষ্ঠীর কর্মকর্তাকে গ্রেফতারির দাবি জানাচ্ছিল। শেষমেশ চাপের মুখে সক্রিয় পুলিশ। প্রফুল্ল ঠাকুর জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত এসপি পঙ্কজ প্যাটেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের ঘটনার পরই সাফাই দেন বেদান্ত কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা মূলত তাদের একটি সাব-কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে কর্মরত ছিলেন। তবে আহতদের সুচিকিৎসা এবং শোকতপ্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিনি বিলাসপুর ডিভিশনাল কমিশনারকে দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তরফে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তও শুরুর নির্দেশও দেন তিনি।















