আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে চলা এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান ঘাটতির খবর যখন সামনে এসছে ঠিক তখন গোয়ার একটি খামারবাড়ি বা ফার্মস্টের ব্যবস্থা করেছে, যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ফার্মস্টেতে ব্যবহার করা হচ্ছে টেকসই প্রযুক্তি,যা পরিবেশবান্ধব এবং খরচ সাশ্রয়ী। বর্তমানে এই ফার্মস্টে ব্যাবস্থা সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সাড়া ফেলেছে। গোয়ার মোলেম ন্যাশনাল পার্কের ভিতরে কারমানে গ্রামে অবস্থিত 'দুধসাগর প্ল্যান্টেশন অ্যান্ড ফার্মস্টে' গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ এলপিজি মুক্তভাবে তাদের রান্নাঘর পরিচালনা করছে । ১৯৮৭ সালে স্থানীয় রাজমিস্ত্রির সাহায্যে তারা একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের সিলিন্ডার তৈরি করেছিল। এটি মুলত একটি গম্বুজ আকৃতির ট্যাঙ্ক, যার ওপরের দিকে একটি পাইপ যুক্ত।
ফার্মস্টের বাসিন্দারা রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার হিসাবে মূলত জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন, যা রান্নার কাজে যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে । এতে একদিকে যেমন এলপিজির চাহিদা কমছে, অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও হচ্ছে সঠিকভাবে। এই পদ্ধতিতে জ্বালানি তৈরির জন্য তারা কোনও আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে অত্যন্ত সাধারণ উপাদান ব্যবহার করছে। গোবর, যা খামারের গবাদি পশুর বর্জ্য। এটিই এই ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং কার্যকর দিক, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করে তোলে।
এই প্রযুক্তিতে কোনও কিছুই অপচয় হয় না। রান্নার গ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্টাংশ থাকে, তা বাগানের জন্য উন্নত মানের জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে, যার ফলে বাজারের এলপিজি সিলিন্ডার বা তার আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তাদের কোনও চিন্তা করতে হয় না। এই পদ্ধতি শুধু পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করছে না, বরং গ্রামীণ ও শহরতলির মানুষের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবেও উঠে আসছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ঘাটতির সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভারতে সাম্প্রতিক এলপিজি সঙ্কটের সময় এই ফার্মস্টের পুরনো কিন্তু কার্যকর 'দেশি' পদ্ধতিটি প্রমাণ করেছে যে, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর হওয়ার জন্য সবসময় জটিল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। ফার্মস্টের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং অনেকেই এটিকে ভবিষ্যতের টেকসই জীবনযাপনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এধরনের প্রযুক্তি যদি বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহার করা যায়, তবে তা দেশের জ্বালানি সঙ্কট অনেকটাই কমাতে পারে।
