আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাতরাশেই কেটেছে জট। স্বস্তি পেল কংগ্রেস। কিন্তু, সবটাই কী আসলে ছাই চাপা আগুন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। হাত শিবির সূত্রে খবর, সিদ্দারামাইয়-শিবকুমারের মধ্যে রফাসূত্র হয়েছে। সেই রফা অনুসারে আপাতত ধৈর্য ধরতে হবে ডিকে-কে। তাহলেই মিলবে কুর্সির স্বাদ। দলের অনের শীর্ষ নেতার মতে, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই সিদ্দারামাইয়ার থেকে মুক্যমন্ত্রিত্বের ব্যাটন পাবেন শিবকুমার।
আপাতত অবশ্য উত্তেজনা প্রশমনে শিবকুমারকে শান্ত থাকতে হবে। ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত চুপ করে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
রফা অনুযায়ী, শিবকুমারের অনুগতদের আরও মন্ত্রী পদ দেওয়া হবে। শিবকুমার কর্ণাটকের প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকাশ্যে অবস্য এই রফা নিয়ে মুখ খোলেননি সিদ্দারামাইয়া বা কংগ্রেস হাইকমান্ড। পদলে সিদ্দা-ডি-কের ঐক্যের ছবি তুলে ধরে ২০২৮ সালে নির্বাচনের সময় যুযুধান দুই নেতাই একযোগে লড়াই চালাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শিবকুমারের ক্ষেত্রে এই রফাসূত্র মেনে নেওয়া আসলে কি আপস? শিবকুমার অভ্যুত্থান করতে পারবেন না কারণ তাঁর পক্ষে পর্যাপ্ত বিধায়ক নেই। কংগ্রেসও জানে যে, সিদ্দারামাইয়া-এর মতো একজন অভিজ্ঞ, তুখোড় প্রবীণ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে দলেরই ক্ষতি হবে।
এই অবস্থায় রফাসূত্রই শিবকুমারের কাছে সবচেয়ে ভাল বিকল্প।
অন্যদিকে, সিদ্দারামাইয়া জানেন যে- তিনি চিরকাল মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। ব্যাটন তাঁকে ছাড়তেই হবে। ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে এটাই তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের শেষ মেয়াদ। তাই উত্তরাধিকারকে দৃঢ় করে তুলেছেন সিদ্দা। ভবিষ্যতে নিজের নাম অনুগামীদের মধ্যে দিয়েই উজ্জ্বল করে তুলতে মরিয়া কর্নাটকের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে, এই রফা ওরফে 'আপস সূত্র' কিছু পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে- যা ক্ষমতার উত্তরণকে ব্যাহত বা মসৃণ করতে পারে।
প্রথমটি হল- প্রতিশ্রুতি রক্যার ক্ষেত্রে শিবকুমার কী সিদ্দারামাইয়াকে আদৌ বিশ্বাস করবেন?
দ্বিতীয়ত- ২০২৮ সালের লড়াইয়ের জন্য দিল্লিতে কংগ্রেস হাইকমান্ড কি সময়মতো উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে?
তৃতীয়ত- বর্ণভেদ প্রথা। সিদ্দারামাইয়াকে 'অহিন্দা' রাজনৈতিক জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হিসেবে দেখা হয়ষ এই গোষ্ঠী রাজ্যের প্রধান বর্ণ এবং ধর্মীয়সম্পর্রদায় নিয়ে গঠিত, যার লক্ষ্য লিঙ্গায়ত সম্প্রদায় এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী (ওবিসি) ভোক্কালিগাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা। অন্যদিকে, শিবকুমার হলেন ওবিসি ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের মুখ। কংগ্রেস এই গোষ্ঠীকেও চটাতে চাইবে না। ফলে 'আপস সূত্রে' কার লাভ, কার ক্ষতি এখনও স্পষ্ট নয়।
