আজকাল ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদে ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর বিক্রির বিরুদ্ধে এক বিরাট সাফল্য পেল পুলিশ। গত ১০০ দিন ধরে অভিযান চালাচ্ছিল 'হায়দরাবাদ ফুড অ্যাডাল্টারেশন সারভাইল্যান্স টিম' (এইচ -ফাস্ট)। এর মধ্যেই ভেজাল ও বিপজ্জনক খাবার বিক্রির অভিযোগে ১৮৫টি মামলা দায়ের করেছে ওই টিম। পাশাপাশি, বাজেয়াপ্ত করেছে প্রায় ১২২ টন ভেজাল খাদ্যসামগ্রী। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

হায়দরাবাদ সিটি পুলিশের অধীনে গত ১৯ মার্চ এই বিশেষ টিমটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, খাদ্য সুরক্ষা এবং পশুচিকিৎসা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরজুড়ে একের পর এক বড়সড় অভিযান চালানো হয়েছে।

এর মধ্যে ৫৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে রাজেন্দ্রনগরে। যা সর্বাধিক। এর পরেই রয়েছে গোলকোন্ডা (৪৪), সেকেন্দ্রাবাদ (৩৫), চারমিনার (২১), শামশাবাদ (১৩), জুবিলি হিলস (১২) এবং খৈরাতাবাদ (৫)।

 

টানা ১০০ দিনের এই ম্যারাথন অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভেজাল খাবারের তালিকায় রয়েছে ২৭ টন ভেজাল আদা-রসুন বাটা, ২৫ টনেরও বেশি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল, ৩০ টনের বেশি ফেলে দেওয়া মুরগির বর্জ্য, ১৫ টন নিম্নমানের মুরগি ও অন্যান্য মাংস, ৯ টনের বেশি বাসি ও পচা আচার, ৪ টন ভেজাল খোয়া ক্ষীর, ৩.৯ টন নকল চা পাতা, ৩.২ টন ভেজাল ক্রিম, ২.৭ টন নিম্নমানের ড্রাই ফ্রুটস ও খেজুর, ২.৫ টন ভেজাল দই, ১.৫ টন সিন্থেটিক পনীর, ১২০ কেজি অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি ফ্রায়েড চিকেন।

 

এছাড়াও, এঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য আরও ২৪৭টি মামলা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন-এর খাদ্য সুরক্ষা অফিসারদের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বিভিন্ন পনীর তৈরির ইউনিট, জলের প্ল্যান্ট, বেকারি, হস্টেল, মাংসের দোকান এবং অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে ৯০টি অভিযোগ সরাসরি সাধারণ মানুষই করেছেন বলে দাবি।

 

ভেজাল খাবারের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সজ্জনার। তিনি বলেন, "খাবারে ভেজাল দেওয়া কোনও লঘু অপরাধ বা নিয়মভঙ্গ নয়। আমরা এটিকে 'খুনের চেষ্টা'-র সমতুল অপরাধ বলে মনে করি। এই মাফিয়ার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন অ্যাক্ট বা প্রতিরোধমূলক আটক আইন প্রয়োগ করতেও আমরা দ্বিধাবোধ করব না।"

 

কমিশনার জানান, পুলিশের কাছে প্রতিদিন গড়ে ১৫জন অভিযোগ জানাতে আসেন। তিনি সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, কোথাও ভেজাল খাবার বিক্রি হচ্ছে সন্দেহ হলে যেন তাঁরা সরাসরি 'ডায়াল ১০০' অথবা এইচফাস্ট-এর হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে জানাতে পারেন। তবে অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।