আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তাল অসম। পরিস্থিতি বিচারে নামাতে হল র‍্যাফ। বন্ধ করে দেওয়া হল ইন্টারনেট। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মঙ্গলবার অসমের কোকরাঝাড় জেলায় বোড়ো এবং আদিবাসীদের (উপজাতি) মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ সংঘর্ষের পরিস্থিতি জটিল হয় কিছুক্ষণেই। গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই দফায় দফায় উত্তাল হয় এলাকার পরিস্থিতি। 

সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায় পরিস্থিতি বিচারে  এবং ইন্টারনেট/মোবাইল ডেটা পরিষেবা বন্ধ করে  দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট এলাকার। 

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। সোমবার রাতে কোকরাঝাড়ের কারিগাঁও এলাকার মানসিংহ রোডে এক সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়ে একটি গাড়ি অন্য সম্প্রদায়ের কিছু লোককে ধাক্কা দেয়। জানা যায় ঘটনার সূত্রপাত সেখানেই। প্রতিবেশী গ্রামবাসীরা গাড়িতে থাকা লোকদের মারধর করে এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, এই গোটা সংঘর্ষের সূত্রপাতের অপর এক কারণ হল, গোরু চুরির সন্দেহ। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, অপর চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। 

জানা গিয়েছে, রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন, সোমবার রাতে আওদাং এলাকায় একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কাজ শেষ করে ফিরছিলেন। গাড়িটি গৌরী নগর-মাশিং রোডের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি দল গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে, অভিযোগ করা হয় যে তারা গরু চোর বলে সন্দেহ করে। আচমকা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করা হলে, গারিটি আটককারীদের ধাক্কা মারে। কয়েকজন আহত হন। সেখান থেকেই মূল সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত। 

 

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তেজিত জনতা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের উপর চড়াও হয়। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তৎক্ষণাৎ। গুরুতর আহত হন কয়েকজন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শিখনা জোয়ালাও ওরফে রাজা নামে একজনের মৃত্যু হয় সেখানে। ওই ব্যক্তি এলাকার একটি সড়ক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, ঠিকাদারের আত্মীয় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আহত অপর চার ব্যক্তি হলেন, প্রভাত ব্রহ্ম, জুবিরাজ ব্রহ্ম, সুনীল মুর্মু এবং মহেশ মুর্মু । তাঁরা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কোকরাঝাড় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বার্তা এবং গুজব ছড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করে, স্বরাষ্ট্র বিভাগ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমগ্র জেলায় এই পরিষেবাগুলি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।