আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের এই যুদ্ধ আবহে বড়সড় স্বস্তি ভারতের তেল আমদানিতে। যাবতীয় আশঙ্কা উড়িয়ে আজ বিকেলে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার। কোনওরকম বাধা বা দুর্ঘটনা ছাড়াই জাহাজটি ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে খবর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই আরও একটি তেলের জাহাজ ভারতের পথে রওনা দেবে। এই উত্তেজনার আবহে ভারতের জন্য বড় আশ্বাস দিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি। আজ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের দিকে আসা জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালীতে ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের পথ করে দেবে তেহরান। দুই দেশের পুরনো বন্ধুত্ব এবং স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই যে এই বিশেষ ছাড়, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে রীতিমতো অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ইরান অবরোধের ডাক দেওয়ায় মাঝসমুদ্রেই আটকে পড়েছিল অজস্র তেলের জাহাজ। ভৌগোলিক ভাবে অত্যন্ত সংকীর্ণ (মাত্র ৫০ কিমি চওড়া) এবং অগভীর হওয়ায় এই জলপথটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে ভারতের এই তেলের ট্যাঙ্কারটি নির্বিঘ্নে বেরিয়ে আসতে পারায় আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে দিল্লি।

">

প্রসঙ্গত, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। আর প্রথম ভাষণেই আমেরিকার বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখা হবে। শুধু তাই নয়, মধ্য এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা জারি রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেলে জনৈক সংবাদ সঞ্চালক খামেনেইর এই বিবৃতি পাঠ করেন। এদিন অবশ্য তাঁকে ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এই অঞ্চল থেকে অবিলম্বে আমেরিকার সব ঘাঁটি সরাতে হবে।" তা না হলে সেই ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার শপথ নিয়েছেন নতুন এই ইরানি নেতা। তাঁর দাবি, ইরান তার শত্রুদের কাছ থেকে কড়ায়-গণ্ডায় 'ক্ষতিপূরণ' আদায় করবে। তাঁর কথায়, "শত্রুরা যদি নিজের থেকে ক্ষতিপূরণ না দেয়, তবে ইরান তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেবে অথবা তা ধ্বংস করে দেবে।"

অন্য দিকে, যুদ্ধের আবহ কাটাতে একই দিনে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত মেটাতে হলে আগে ইরানের ‘ন্যায্য অধিকার’ স্বীকার করে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনও আক্রমণ হবে না- এই মর্মে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

নিজের এক্স হ্যান্ডলে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে টাকাও দিতে হবে। রাশিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইরান শান্তি চায়। কিন্তু তার জন্য ইরানকে তার পাওনা অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে হবে।