আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরাকের কাছে তেলবাহী জাহাজে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হল এক ভারতীয় মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের। মৃত দেও নন্দন প্রসাদ সিং (৫৬) আদতে বিহারের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবার মুম্বইয়ের কান্দিভালিতে থাকতেন। এই ঘটনায় জাহাজ সংস্থা ও প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার। ইরাকের বসরা সংলগ্ন খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আচমকা হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ওই জাহাজে অতিরিক্ত মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন দেও নন্দন। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। শুক্রবার এই খবর পেতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। মৃতের কন্যা কোমল সিং নাগপুর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। 

তিনি জানান, গত ১১ মার্চ রাতেও বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু রাত আড়াইটে নাগাদ বাবা ফের ফোন করে জানান, জাহাজে আগুন লেগেছে। তার পর থেকে বারবার ফোন করলেও আর যোগাযোগ করা যায়নি। কোমলের অভিযোগ, “শিপিং কোম্পানি প্রথমে আমাদের ঠিক করে কিছুই জানায়নি। পরে বলা হল, বাবা অনেক পরিমানে সমুদ্রের নোনা জল খেয়ে ফেলেছিলেন বলে তাঁকে বাঁচানো যায়নি। অথচ আমাদের কোনও সরকারি চিঠি দেওয়া হয়নি।”

জানা গিয়েছে, বড় ছেলের পড়ার খরচ এবং মেয়ের কলেজের বকেয়া ফি মেটানোর জন্য বাড়তি উপার্জনের আশায় এই শেষ বার সমুদ্রে গিয়েছিলেন দেও নন্দন। অথচ আজ তাঁর নিথর দেহের অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার। স্ত্রী কুমকুম সিংয়ের আক্ষেপ, “আমি আমার স্বামীকে জীবিত পাঠিয়েছিলাম, ওঁকে সেই ভাবেই ফিরে পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন কেউ আমাদের সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।”

বিদেশে থাকা ছেলে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের পথে রওনা দিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও, নিহতের পরিবার আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। এখন কবে ওই ইঞ্জিনিয়ারের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তার অপেক্ষাতেই দিন গুনছে পরিবার৷