আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭-এই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। আসন্ন ভোটের আগেই বড় ঘোষণা সমাজবাদী পার্টির। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করবে তারা। অর্থসঙ্কটকেই দায়ী করে চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে এমনই ঘোষণা করা হয়েছে দলের তরফে।
বুধবার সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। জানান, অর্থাভাবের কারণে এই আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে তারা বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে যেসব আসনে কম ব্যবধানে হেরেছিল সমাজবাদী পার্টি, সেই আসনগুলিতেই আইপ্যাকের সঙ্গে কাজ করার কথা ছিল। সেই চুক্তি থেকেই সরে আসল অখিলেশের দল। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অখিলেশ বলেন, "আমাদের কাছে টাকা নেই। মিডিয়া টাকা দিলে আমরা অন্য একটি কোম্পানি নিয়োগ করতে পারি।”
তবে সমাজবাদী পার্টি কোনও ম্যানেজমেন্ট সংস্থার সহায়তা ছাড়াই ভোটে লড়বে, এমনটা নয়। সূত্রের খবর, অন্য একটি নির্বাচনী প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সংস্থা শোটাইম- এর সঙ্গে অন্য একটি চুক্তি বহাল রাখা হবে। প্রায় দু’মাস আগে এই সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আর্থিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে আই-প্যাকের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে আসার কারণ জানালেও রাজনৈতিক মহলে অন্যরকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনের ফলাফলও এর নেপথ্যে থাকতে পারে। এই রাজ্যগুলিতে আই-প্যাকের পরামর্শে লড়াই করেও তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মমতা ব্যানার্জী এবং এম কে স্টালিনের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের পরাজয় আই-প্যাকের কার্যকারিতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যদিও এই কারণকে কার্যত অস্বীকার করেছেন অখিলেশ। বলেছেন, "আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের কোনও যোগাযোগ নেই।"
অন্য দিকে, সম্পর্কচ্ছেদের পিছনে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চ্যান্ডেলের গ্রেপ্তারিও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত এপ্রিল মাসেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি পশ্চিমবঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, হাওয়ালার মাধ্যমে বেআইনি টাকা আই-প্যাকে লেনদেন করা হয়েছে। যদিও ওই ঘটনায় তিনি জামিন পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা সংস্থার ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও কালিমালিপ্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তে দাবি করা হয়, একটি ‘হাওলা’ চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা I-PAC পরিচালনাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল এবং সেই অর্থ বৈধ
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন অখিলেশ যাদবের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির সাম্প্রতিক ভরাডুবির পর অখিলেশ যাদব কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এ দিকে, নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপি-র মোকাবিলায় সমাজবাদী পার্টির জয়ের দিকে তাকিয়ে দেশের অন্যান্য বিরোধী দল।















