আজকাল  ওয়েবডেস্ক: লেন্সকার্টের পর এবার পোশাকবিধি বা 'গ্রুমিং গাইডলাইন' নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু বা বিমানসেবিকাদের সাজগোজ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ওই ভাইরাল হওয়া হ্যান্ডবুকে দাবি করা হয়েছিল যে, ডিউটিতে থাকাকালীন কোনও  কর্মী কপালে সিঁদুর, টিপ কিংবা গলায় মঙ্গলসূত্র পরতে পারবেন না। এমনকি চুড়ি, কালো সুতো বা মেহেন্দির ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়। এই খবর সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন কর্পোরেট সংস্কৃতির নামে ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া ওই তথাকথিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোনা বা রুপোর সাধারণ চুড়ি ছাড়া পাথর বসানো কোনও  অলঙ্কার বা ব্রেসলেট পরা নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি বিয়েতে পরা 'চূড়া' বা হাতে-পায়ে কোনও  রকম পবিত্র সুতো বাঁধাও বারণ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বিতর্ক চরমে পৌঁছতেই মুখ খুলেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভাইরাল হওয়া ওই নির্দেশিকাটি অত্যন্ত পুরনো এবং বর্তমানে এর কোনও  কার্যকরিতা নেই। এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, "আমাদের কর্মীদের টিপ বা বিন্দাস পরার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। সমাজমাধ্যমে যে ছবিগুলো ঘুরছে তা একটি পুরনো ম্যানুয়ালের অংশ, যা এখন আর ব্যবহার করা হয় না।"

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিল চশমা বিপণন সংস্থা লেন্সকার্ট। অভিযোগ উঠেছিল, তাদের স্টোর পলিসিতে হিজাব পরার অনুমতি থাকলেও টিপ বা হাতে কালাওয়া (পবিত্র সুতো) বাঁধার অনুমতি ছিল না। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেলে লেন্সকার্ট দ্রুত তাদের ভুল সংশোধন করে এবং একটি নতুন 'স্টাইল গাইড' প্রকাশ করে। সেখানে তারা পরিষ্কারভাবে জানায় যে— টিপ, তিলক, সিঁদুর, কালাওয়া, মঙ্গলসূত্র, কড়া, হিজাব বা পাগড়ির মতো সমস্ত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীককে তারা স্বাগত জানায়। লেন্সকার্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারত ও ভারতীয়দের ভাবাবেগ তাদের কাছে সবার আগে।

এয়ার ইন্ডিয়ার এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ অন্যান্য বিমানসংস্থা যেমন ইন্ডিগো বা স্পাইসজেটের নিয়মাবলী খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষোভের সুরে বলেছেন যে কর্পোরেট দুনিয়ায় আধুনিকতার নামে নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিসর্জন দেওয়ার এই মানসিকতা বন্ধ হওয়া উচিত। এয়ার ইন্ডিয়া বিষয়টিকে 'পুরনো ভুল' বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিতর্ক আপাতত থামার লক্ষণ নেই। বিমান সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এবং তাদের বর্তমান নিয়মাবলীতে কর্মীদের নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রাখায় কোনও  বাধা নেই।