আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব আবার খবরের শিরোনামে। সম্প্রতি তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়। মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতেও দমবার পাত্র নন তিনি। পাল্টা দাবি করেছেন, দেশের সিংহভাগ রাজনীতিবিদই পর্ন দেখেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় পাপ্পু মন্তব্য করেন, পুরুষ নেতাদের ‘ঘরে’ না ঢুকে ভারতের অধিকাংশ মহিলার পক্ষে রাজনীতি করা অসম্ভব। এই মন্তব্যের জেরেই তিনি এখন বিপাকে।
সাংসদ বলেন, ‘‘আমি তো সগর্বে বলছি, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রাজনীতিবিদ পর্ন দেখেন। সবার ফোন পরীক্ষা করা হোক। আমার ফোনে আপত্তিকর কিছু থাকলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিন।’’ কমিশনকে আক্রমণ করে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘যাঁরা নোটিস পাঠাচ্ছেন, তাঁদের নিজেদের স্বচ্ছতা কতটা? কাঁচের ঘরে বসে অন্যের দিকে ঢিল ছোড়া বন্ধ হোক।’’
পাপ্পুর দাবি, তিনি আসলে মহিলাদের হয়েই লড়াই করছেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, ‘‘বহু নেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা রয়েছে। এঁরাই মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেন আবার বড় বড় কথা বলেন। এই পুরুষতন্ত্রই মহিলাদের সম্মানের পথে বাধা।’’
মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি আরও এক কদম এগিয়ে বলেন, ভারতের সমাজ ও রাজনীতিতে মহিলাদের ‘শিকার’ হিসেবে দেখা হয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা মুখে দেবীর কথা বলি, কিন্তু আসলে তাঁদের অপমান করি। স্কুল থেকে অফিস- সব জায়গাতেই মেয়েরা শিকার হচ্ছে। এমনকী ৯০ শতাংশ মহিলার রাজনীতিতে আসার রাস্তা তৈরি হয় নেতাদের শয়নকক্ষ ঘুরে। নেতারা আসলে শকুনের মতো বসে আছে।’’
প্রসঙ্গত, বিতর্ক পাপ্পু যাদবের বরাবরের ছায়াসঙ্গী। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময়ও তিনি বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সাধারণ মানুষ পদপিষ্ট হয়ে মরলে যদি মোক্ষ লাভ হয়, তবে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক আর ধনী ব্যক্তিদেরও উচিত গঙ্গায় ডুব দিয়ে ওখানেই মরে যাওয়া। তাতে অন্তত তাঁদের ‘কল্যাণ’ হবে। তাঁর এইসব নানাবিধ মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহল সরগরম।















