আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের আকাশপথে কি বড়সড় বিপদের ছায়া? সংসদীয় কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তাতে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গত এক বছরে ভারতে যতগুলো বিমান পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে অর্ধেক বিমানেই বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরণের সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা গোটা সিস্টেমকেই নতুন করে সাজানোর আর্জি জানিয়েছে। 

এক বিমান বেশেষজ্ঞ সংস্থা, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৭৫৪টি বাণিজ্যিক বিমান পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ৩৭৭টি বিমানে বারবার একই ধরণের ত্রুটি ধরা পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বিমান উড়ানের জন্য সুরক্ষিত নয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা গিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানে। এয়ার ইন্ডিয়ার মোট ১৬৬টি বিমানের মধ্যে ১৩৭টি বিমানে একই ত্রুটি বারবার ধরা পড়েছে। আর এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের মোট ১০১টির মধ্যে ৫৪টিতে নিয়মিত একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। 

২০২৫ সালে আহমেদাবাদে একটি বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। তারপর ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ-এ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলিকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে। গত বছরের জুলাইয়ের ১ থেকে ৪ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। এই পরীক্ষায় প্রায় ১০০টিরও বেশি ত্রুটি ধরা পড়ে, যা কার্যত ভারতের উড়ানব্যবস্থার নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জানা গিয়েছে, এর মধ্যে ৭টি বিমানের গোলযোগ অত্যন্ত গুরুতর ছিল। 

এই বিশেষ পরীক্ষায় উঠে এসেছে, বোয়িং ৭৮৭ এবং ৭৭৭ বিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। ৪টি আন্তর্জাতিক বিমানে প্রয়োজনের তুলনায় কম কেবিন ক্রু রয়েছে। এবং পাইলটদের কাজের সময়সীমা বিষয়ক নিয়মগুলি মানা হচ্ছে না। যেমন মিলান থেকে নয়া দিল্লির একটি উড়ান নির্ধারিত সময়ের থেকে ঘন্টা দুই বেশি উড়েছে। 

পরীক্ষার পর ডিজিসিএ এয়ার ইন্ডিয়াকে ৯টি শো কজ নোটিশ বা কারণ দেখানোর ৯টি চিঠি দিয়েছে। অর্থাৎ, নিয়ম কেন ভাঙা হয়েছে, তার জবাব চেয়ে ৯ টি চিঠি গিয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে মোট ১৯টি নিরাপত্তা উল্লঙ্ঘনের চিঠি পৌঁছেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থার কাছে। অভিযোগ, পাইলটদের নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরে কাজ করা, উড়ানের আগে কোনও ত্রুটি আছে কিনা সেই পরীক্ষা করায় গাফিলতি, ককপিট (যেখানে বসে বিমান চালান হয়)-এ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ। পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কিছু 'এক্সপায়ার্ড' যন্ত্রের সাহায্যে বিমান চালান। 

চলতি বছরের ফেব্রিয়ারিতে, এয়ার ইন্ডিয়াকে প্রায় ১ কোটি টাকার জরিমানা ধার্য করা হয়। কারণ, গত বছরের নভেম্বরে এয়ারবাস-এথ্রীটুও নামের বিমানটি টানা আটবার ওড়ে। অথচ সেই বিমানের কাছে উড়ানের অনুমতি পত্রই ছিল না। 

সংসদীয় কমিটি শুধু বিভিন্ন বিমান সংস্থাগুলির দিকেই আঙুল তুলেছে তা নয়, কমিটির চোখ রাঙানি থেকে বাদ পড়েনি স্বয়ং ডিজিসিএ। কমিটির দাবি, ডিজিসিএ-তে প্রায় ৪৮.৩% পদ খালি। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত কর্মী নেই। দেশের বিমান ব্যবস্থা অনেক বড়। তার উপরে সঠিক নজরদারি করার জন্য চাই যথেষ্ট লোকবল। কিন্তু ফাঁকা ডিজিসিএ-এর পদ। 

কমিটির দাবি, দেশের বিমানব্যবস্থায় খুব তাড়াতাড়ি বড় ধরণের পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রয়োজন সঠিক নজরদারিরও। তাই ডিজিসিএ-তে দরকার পর্যাপ্ত কর্মী। তাহলে বিমান সংস্থাগুলি ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টাও করবে না।