আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের গ্রামীণ বাড়িতে নল-জল সংযোগ দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু ২০২৪ সালের এক মূল্যায়ন বলছে—গুণমানে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে। জল শক্তি মন্ত্রকের জাতীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, গৃহস্থালি নল থেকে নেওয়া নমুনার ৭৬% পরীক্ষায় পাশ করেছে, আর ২৪% মাইক্রোবায়োলজিক্যাল মান পূরণ করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতি চারটি নমুনার একটিতে সমস্যা। তবু সমীক্ষায় ৯২.৪% পরিবার জানিয়েছে, তারা নল-জলের গুণমানে সন্তুষ্ট।
উদ্বেগ বাড়ায় আরেকটি তথ্য—প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবার জল খাওয়ার আগে কোনও পরিশোধন পদ্ধতি ব্যবহার করে না। ফলে যে জলের মান যে খারাপ, সেটিই সরাসরি পান করছেন বহু মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহুদিন ধরেই সতর্ক করছে, দূষিত পানীয় জল কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিস এ, টাইফয়েড ও পোলিওর মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
সরকার জানিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জল জীবন মিশনের আওতায় প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন (৮১.৬%) গ্রামীণ পরিবার নল-জল সংযোগ পেয়েছে। ৯৮% পরিবারের সংযোগ থাকলেও ৮৭% বলেছে তা কার্যকর; ৮৪% নিয়মিত জল পায় এবং ৮০% মাথাপিছু দৈনিক ৫৫ লিটারের বেশি জল পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংখ্যাগুলি আশাব্যঞ্জক, কিন্তু মানের প্রশ্নে চিত্রটা এতটা স্বস্তিদায়ক নয়।
স্কুল, আঙ্গনওয়াড়ি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানগুলিতে পাশের হার গড়ে ৭৩%। অর্থাৎ শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, এবং চিকিৎসা নিতে আসা মানুষও ঝুঁকির বাইরে নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণত একই গ্রাম্য উৎসের উপর নির্ভর করে, ফলে সমস্যাও একই রকম থেকে যায়।
নজরদারির ক্ষেত্রেও ঘাটতি স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত ফিল্ড টেস্ট কিট ৭৩% গ্রামে নেই। জল দেখতে, গন্ধে বা স্বাদে ঠিকঠাক হলেই নিরাপদ—এমন ধারণা বহু জায়গায় প্রচলিত। কিন্তু জীবাণু দূষণ চোখে দেখা যায় না। ৭০% গ্রামের বেশি ক্লোরিনেশন ব্যবস্থা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লোরিনেশন মূলত জীবাণু দূষণ কমায়; রাসায়নিক দূষণের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট নয়। ফলে প্রকৃত সমস্যার পরিমাণ রিপোর্টের চেয়েও বেশি হতে পারে।
গ্রামস্তরের ব্যবস্থাপনায়ও অসমতা আছে। প্রায় ৫৫% গ্রামে ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি বা পানি সমিতি রয়েছে। দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী আছে ৫৮% গ্রামের মতো—অর্থাৎ বহু জায়গায় সিস্টেম নষ্ট হলে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা নেই। অকার্যকর সংযোগের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পাইপলাইনের ক্ষতি (৩২%) ও পাম্প বিকল হওয়া (৩০%)।
রাজ্যভেদে চিত্র আরও বৈচিত্র্যময়। লাদাখে পাশের হার ৯৯%, কিন্তু ত্রিপুরাতে তা মাত্র ৩১.১%। জাতীয় গড় ৭৬%–এর নিচে রয়েছে উত্তর প্রদেশে (৬৬.৪%), মধ্যপ্রদেশে (৬৩.৩%), কেরালা (৫৬.৪%) এবং গুজরাট (৪৭.৩%)।
সব মিলিয়ে বার্তাটা স্পষ্ট—নল-জল সংযোগ বাড়ানো বড় সাফল্য, কিন্তু ‘সংযোগ’ আর ‘নিরাপদ জল’ এক জিনিস নয়। পরিকাঠামোর পাশাপাশি নিয়মিত ও স্বাধীন জলমান পরীক্ষা, দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন।
