আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: সংসদে ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে না পেরে কেন্দ্রের শাসক দল বিরোধীদের দুষছে। মহিলা বিরোধী তকমা দিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে। পাল্টা প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বিরোধী শিবির থেকেও। বিজেপির মুখোশ খুলে দিতে ময়দানে নেমেছে তারা। দেশের ২৯ শহরে সাংবাদিক বৈঠক করে মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে কংগ্রেস। এবার মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে আরও চাপ বাড়াতে চলেছে তারা। মহিলা কংগ্রেসের তরফে পোস্ট কার্ড অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করছে বিরোধী শিবির। লোকসভার আসন না বাড়িয়ে বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩–এর ওপরই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে বলে দাবি করছে মহিলা কংগ্রেস।
এদিকে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ টিএন প্রতাপন প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ভাষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। জনগণের টাকায় চলা সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করে ভোটের সময় বিরোধী দলের সমালোচনা করা অনৈতিক এবং নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি ও জন প্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়েরের পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালত যেন বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়, সেই আবেদন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস দপ্তরে সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী অলকা লাম্বা, দলের এসসি বিভাগের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাল গৌতম এবং অনিল যাদব সাংবাদিক বৈঠক করেন। অলকা লাম্বা দাবি করেন, দেশজুড়ে মহিলা কংগ্রেস পোস্ট কার্ড অভিযান শুরু হচ্ছে। এই অভিযান আগামী ২ মাস ধরে ধরে চলবে। দেশের প্রতিটি লোকসভা, বিধানসভা এবং গ্রাম থেকে ১০ লাখ মহিলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পোস্ট কার্ড পাঠাবেন। যার মাধ্যমে দাবি করা হবে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম ২০২৩ অবিলম্বে কার্যকর করার। মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী জানান,‘আগামী জুলাই মাসে সংসদে বাদল অধিবেশন বসবে। আমাদের দাবি, ওই সময় বিশেষ প্রস্তাব এনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে সরকারকে। সকলের ঐক্যমতে ৫৪৩ আসনে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’ অলকা দাবি জানিয়েছেন, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) মহিলাদেরও এই সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একটি জাতিগত জনগণনা পরিচালনা করতে হবে এবং তার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
বিরোধীদের মহিলা বিরোধী তকমা দেওয়া বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেছেন রাজেন্দ্র পাল গৌতম। দাবি করেন, মহিলাদের সম্মান নিয়ে বড় বড় কথা বলা প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। ‘কংগ্রেস কি বিধবা’ এবং‘৫০ কড়োর কি গালফ্রেন্ড’– প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা নরেন্দ্র মোদি একথা বলেছিলেন। কংগ্রেস নেতা স্মরণ করিয়েছেন, কর্ণাটকে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রজ্জ্বল রেবন্নার হয়ে ভোট প্রচার করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিলকিস বানো ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের মুক্তি দিয়েছিল বিজেপি সরকার। হাতরস হোক বা উন্নাও–অপরাধীদের সংরক্ষণ দেওয়া বিজেপির আসল ‘চাল-–চরিত্র-–চেহারা।’















