আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সরকারের একের পর এক ১৯টি খনি প্রকল্পের প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ বলে দিল কেন্দ্রীয় বন্যপ্রাণী স্থায়ী কমিটি। উত্তরাখণ্ড সরকারের এই প্রস্তাবগুলি মূলত রাজাজি টাইগার রিজার্ভ এবং বেনোগ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা বা ‘ইকো-সেনসিটিভ জোন’ (ESZ)-এর মধ্যে ছিল। সম্প্রতি ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

আদালত এবং পরিবেশ মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিজস্ব কোনও নির্দিষ্ট বা বিজ্ঞাপিত সীমানা নির্ধারিত নেই, সেগুলির চারদিকের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘ডিফল্ট ইকো-সেনসিটিভ জোন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ অঞ্চলগুলিতে যে কোনও ধরনের উন্নয়নমূলক বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকে। উত্তরাখণ্ড সরকারের ১৯টি খনি প্রকল্পই এই নিষিদ্ধ বলয়ের মধ্যে পড়ছিল, যার ফলে ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ-এর (SC-NBWL) সবুজ সংকেত পাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু কমিটির বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বন্যপ্রাণীর বসতিতে থাবা বসিয়ে এমন কোনও কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

সূত্রের খবর, এই প্রত্যাখ্যানের পেছনে শুধুমাত্র আইনি মারপ্যাঁচ নয়, রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতিও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যাচ্ছে, খনি খননের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীগুলির গতিপ্রকৃতি বদলাবে কি না বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে কি না, সে বিষয়ে কোনও বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষা বা রিপোর্ট জমা দেয়নি উত্তরাখণ্ড সরকার। এমনকি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর এই খননকার্যের প্রভাব ঠিক কতটা পড়বে, তারও কোনও সঠিক ব্যাখ্যা মেলেনি। এই খামতিগুলো নজরে আসার পরই কমিটি প্রস্তাবগুলি খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর পাশাপাশি কমিটির পক্ষ থেকে রাজাজি টাইগার রিজার্ভ এবং বেনোগ অভয়ারণ্যের জন্য নির্দিষ্ট ইকো-সেনসিটিভ জোন চূড়ান্ত না করার বিষয়টি নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, এক বছরের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত বাফার এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইকো-সেনসিটিভ জোন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। উত্তরাখণ্ড সরকার এখনও সেই নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি।

সবশেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে যতক্ষণ না ড্রাফট নোটিফিকেশন জারি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ এই স্পর্শকাতর এলাকায় কোনওভাবেই খনি খননের কাজ চালানো যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে হিমালয়ের পাদদেশের এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা আপাতত সুনিশ্চিত হল বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তবে রাজ্য সরকার আগামী দিনে এই নির্দেশ মেনে নতুন কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।