আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিমুখী পাকিস্তানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হরিয়ানার আকাশে মাঝপথেই ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা! সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের মে মাসে দেখা গিয়েছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের ‘ফাতেহ’ বা ‘শাহীন’ সিরিজের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দিল্লির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝ আকাশেই ভারত সেই অস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে সামনে এল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল। তার জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর সফলভাবে চালায়। সেই উত্তেজনার মধ্যে ভারতের পশ্চিম সীমানায় দেখা গিয়েছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে। তবে, শেষ পর্যন্ত এড়ানো গিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার(আইএএফ) একটি ইউনিটের জন্য।
হরিয়ানার সিরসা এয়ারবেসে মোতায়েন করা সীমান্তের এই বায়ুসেনার ইউনিট অতি সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট। এই প্রতিরোধমূলক অভিযানের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর রোহিত কপিল। তখন তিনি ৪৫ উইং-এর এয়ার অফিসার কমান্ডিং ছিলেন। তাঁর এই সঠিক সময়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য দেশের এই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, তথ্য তেমনটাই।
জানা গিয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন পরে সিরসা এলাকায় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধারের পরে তা পরীক্ষা করা হয় এবং তারপরে ক্ষেপণাস্ত্রটির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এয়ার কমোডর রোহিত কপিলের নেতৃত্বের জন্য এবং সক্রিয় সংঘর্ষের সময় তাঁর প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার জন্য ২০২৫ সালে তাঁকে ‘যুদ্ধ সেবা পদক’ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
উল্লেখ্য, এয়ার কমোডর কপিল একজন সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান চালক এবং তিনি একটি অপারেশনাল সু-৩০ এমকেআই স্কোয়াড্রনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিরোধমূলক অভিযান বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
পুরো ঘটনাটিকে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহল মহল। বর্তমানে ‘সুদর্শন’ কর্মসূচির অধীনে সারা দেশে একটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার কাজ চলছে। এই কর্মসূচির মধ্যে এস-৪০০, বারাক-৮ এবং দেশীয় ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলিকে একত্রিত করা হচ্ছে।















